নিউজ ডেস্ক : ‘অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে কাঙ্ক্ষিত জন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন একথা বলেন।
তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান।
ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্রহীনতা, গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি, একদলীয় নির্বাচন ও সর্বত্র দলীয়করণের ফলে রাষ্ট্রে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না।
২৪- এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদক্ষতা ও ব্যর্থতায় সেই কাঙ্ক্ষিত জন প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হয়নি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে উল্লেখ করে প্রবীণ এই আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ নতুন সরকারের প্রতি একগুচ্ছ কড়া বার্তা দেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধকল্পে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এর ব্যত্যয় হলে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দুরূহ হয়ে পড়বে।’
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, গণফোরামের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোস্তফা মহসীন মন্টুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি ষাটের দশকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মোস্তফা মহসীন মন্টুর অগ্রণী ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সে বিষয়ে সজাগ থাকবে।’




