আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাকিস্তানি সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। দেশটির এই নতুন সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’।

আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় শুক্রবার ভোরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর আফগানিস্তানের তালেবান জানিয়েছে, তারা যৌথ সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগান শহরগুলোতে তাদের ‘পাল্টা হামলা’ ছিল ‘আফগান হামলার’ জবাব। তবে আফগান তালেবান বলেছে, সেগুলো ছিল আগের পাকিস্তানি হামলার প্রতিক্রিয়া।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)এ ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
তিনি তার বার্তায় চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে এবং এখন থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে কেবল যুদ্ধই হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও সাগর থেকে ভেসে আসেনি।
এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের বিমান ও স্থলবাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এক্সে জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে রাজধানী কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে আফগান সামরিক বাহিনীর ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
মোশাররফ জাইদি আরও দাবি করেন যে, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) বোমাবর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটিসহ তিনটি ব্যাটালিয়ন ও দুটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি গান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করার দাবি করেছে পাকিস্তান।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালিয়ে ৮০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সে সময় পাকিস্তান দাবি করেছিল নিহতরা নিষিদ্ধ গোষ্ঠী টিটিপির যোদ্ধা, কিন্তু তালেবান সরকার জানায় তারা ছিলো সাধারণ নাগরিক।
এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা ও অপহরণ করে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বার্তায় জানান, তারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ বার আমরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নরকে পাঠাব।




