ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের গতি, সংগঠিত রক্ষণ এবং লড়াকু মানসিকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেতিন্নো। তার মতে, বল দখল হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচটিতে জয় পেলে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে আমেরিকানরা।
এর আগে ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে বেলজিয়াম ও প্যারাগুয়েকে হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে নকআউট পর্বে ওঠার পথও অনেকটা নিশ্চিত হবে তাদের।
তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না পচেতিন্নো। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার খেলার ধরন নিয়ে পচেতিন্নো বলেন, ‘ওরা খুবই আগ্রাসী এবং দারুণভাবে সংগঠিত একটি দল। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা গেছে, তাদের বিপক্ষে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করা কতটা কঠিন। বল পুনরুদ্ধার করার পরপরই ওরা দ্রুত আক্রমণে উঠে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে দলগত অবস্থান বদলে ফেলে।’
অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিকের ভূয়সী প্রশংসাও করে তিনি বলেন, ‘আমার মতে দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের কোচের গড়ে তোলা মানসিকতা। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আমি খুবই সম্মান করি। তিনি এমন একটি দল তৈরি করেছেন, যারা নিজেদের পরিকল্পনার ওপর শতভাগ বিশ্বাস রাখে। এমন দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন।’
যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের খেলা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পচেতিন্নো জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও তার দল নিজেদের সামর্থ্যের ওপরই আস্থা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘ওদের লম্বা পাসভিত্তিক খেলা শুধু বল সামনে পাঠানোর বিষয় নয়। এর পেছনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে। পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, লম্বা পাস দেওয়ার পর কীভাবে পরিস্থিতি কাজে লাগাতে হয়, সেটি তারা খুব ভালোভাবেই জানে।’
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরের রাউন্ডের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া।




