নিউজ ডেস্ক: আজ পবিত্র আশুরা, হিজরি ১৪৪৮ সালের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম বিশ্বের জন্য দিনটি শোক, ত্যাগ, আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক মহিমান্বিত স্মারক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’। ইসলামের ইতিহাসে মহররমের দশম দিনটি নানা তাৎপর্যে সমৃদ্ধ। কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, এ দিনেই মহান আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন, আরশ, কুরসি, লওহ ও কলম সৃষ্টি করেন। এ দিনেই হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়, হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবনের পর নিরাপদে জুদি পর্বতে ভিড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইল ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ করে।
তবে আশুরার সবচেয়ে বেদনাবিধুর অধ্যায় রচিত হয় ৬১ হিজরির ১০ মহররমে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থান নিয়ে পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের সঙ্গে শাহাদতবরণ করেন। ইসলামের আদর্শ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় তাঁর এই আত্মত্যাগ যুগে যুগে মুসলমানদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল ও নফল ইবাদতের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নফল রোজা পালন করছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযথ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করেছে।
দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুসলিম উম্মাহর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শিক্ষা মানুষকে অন্যায়, অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, আশুরা শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ইসলামী আদর্শকে ধারণ করার আহ্বান জানায় এবং সমাজে বিভেদ, বিদ্বেষ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই বলে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা, আতশবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত সড়কগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করারও আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা কেবল একটি শোকের দিন নয়; এটি সত্য, ন্যায়, ত্যাগ, ধৈর্য ও মানবতার বিজয়ের প্রতীক। কারবালার আত্মত্যাগ আজও বিশ্ব মুসলিমের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে রয়েছে।




