ঢাকা  বুধবার, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশআম্পানের ৬ বছরেও সড়ক সংস্কার হয়নি, বাঁশের সাঁকোই ভরসা সাত গ্রামের মানুষের

আম্পানের ৬ বছরেও সড়ক সংস্কার হয়নি, বাঁশের সাঁকোই ভরসা সাত গ্রামের মানুষের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হওয়ার ছয় বছর পার হলেও সংস্কার হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অংশে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগর ইউনিয়নের গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যায়। পরে কয়েক বছর নৌকাই ছিল চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সেখানে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগর, গোয়ালকাটি ও শ্রীপুরসহ সাত গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ এটি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সরু ও নড়বড়ে ওই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষ চলাচল করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোর বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই ভয়ে শিশুদের একা পার হতে দেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা রানুফা খাতুন বলেন, “আম্পানের সময় সব হারিয়ে প্রায় ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে ছিলাম। এত কষ্টের পরও এখনো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাইনি। রাস্তা না থাকায় সন্তানদের ঠিকমতো স্কুলে পাঠাতে পারছি না।”

খালেক গাজী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চাদেরও ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করতে হয়।”

নাকনা গ্রামের বাসিন্দা ও চিকিৎসক ডা. নিহার সরকার বলেন, প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় বাজার, স্কুল ও কলেজে যাওয়ার এটিই প্রধান স্থলপথ। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই জনপদের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, “কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়া দরকার।”

আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “রাস্তাটি ওয়াশআউট হয়ে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংস্কারকাজ ব্যয়বহুল। বাজেট সংকটের কারণে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আপাতত মানুষের চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ভাসমান সাঁকোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্থায়ী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, আম্পানের পর উপকূলের অনেক এলাকায় উন্নয়নকাজ হলেও প্রতাপনগরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। দীর্ঘ ছয় বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত স্থায়ী সড়ক নির্মাণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

ঢাকানিউজ/নাজ/২৪

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular