আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের উত্তর কোর্দোফানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সঙ্গে তীব্র সংঘাতের পর গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাজরুব পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (আরএসএফ)। যুদ্ধের অন্যতম প্রধান এই যুদ্ধক্ষেত্রে এটিকে সেনাবাহিনীর একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানায়, এই সংঘাতের ফলে আরএসএফ বাহিনীর বহু সদস্য হতাহত হয়েছে এবং তাদের বিপুল পরিমাণ যুদ্ধের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
মুক্ত এলাকার নাগরিকদের আশ্বস্ত করে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানায় সশস্ত্র বাহিনী।
সুদান সেনাবাহিনীর একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, আল-মাজরুব শহরটি উত্তর কোর্দোফানে আরএসএফের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের মুখপাত্র মোহাম্মদ দেইদান বার্তাসংস্থা আনাদুলো অ্যাজেন্সিকে জানান, এই শহরটি উত্তর ও পশ্চিম কোর্দোফান রাজ্য দুটিকে যুক্ত করেছে। শহরটি দখলের মাধ্যমে আরএসএফের মূল সরবরাহ পথগুলো বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চার বছরে গড়ানো যুদ্ধের অন্যতম প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কোর্দোফান অঞ্চল। ২০১৫ সালের শেষের দিক থেকে এখানে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এই বিশাল এলাকাটি উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ কোর্দোফান রাজ্য নিয়ে গঠিত, যা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মধ্যাঞ্চল এবং আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিমের দারফুরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরুর পর থেকে সুদান জুড়ে হওয়া মোট হামলার প্রতি পাঁচটি হামলার একটি এই কোর্দোফান অঞ্চলে সংগঠিত হয়েছে। বর্তমানে উত্তর কোর্দোফানে সেনাবাহিনী এবং পশ্চিমে আরএসএফের প্রভাব বেশি, আর দক্ষিণ কোর্দোফান অঞ্চলটি উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে বেসামরিক যুদ্ধের আগুনে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছে জাতিগত বিভাদ। গত মাসে দক্ষিণ কোর্দোফানের দিলিং শহরে একটি কামান হামলার ঘটনায় আরএসএফের মিত্র গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থকে (এসপিএলএম-এন) দায়ী করেছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।
সূত্র: আল জাজিরা ও আনাদোলো অ্যাজেন্সি




