ঢাকা  শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়আরবান প্রাইমারি হেলথের ৪ হাজার ৩৮২ জনের চাকরি বহালে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

আরবান প্রাইমারি হেলথের ৪ হাজার ৩৮২ জনের চাকরি বহালে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শহর এলাকার গরীব জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের মধ্যে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা–কর্মচারীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গেলেও কর্মরতদের চাকরি বহাল রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার নিশ্চয়তা চান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার(৩০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন তারা। এসয় বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২১টি পৌরসভার প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩০টি নগর মাতৃসদন (সিআরএইচসিসি) এবং ১৬২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (পিএইচসিসি) থেকে প্রসব–পূর্ব ও পরবর্তী সেবা, সাধারণ ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন, শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়া হয়।

এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৯৮৭ জন মাতৃসদনকর্মী ও ৩ হাজার ৩৯৫ জন স্বাস্থ্যকেন্দ্রকর্মীসহ মোট ৪ হাজার ৩৮২ জন চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক ও টেকনিশিয়ান কর্মরত।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০১৮ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার প্রসব–পূর্ব এবং ১০ লাখ প্রসব-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৯৯ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে এই জনবল প্রায় ৭০ লাখ কোভিড-১৯ টিকা দিয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি প্রায় ৬৬ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রজননস্বাস্থ্যসেবা এবং প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্পের পরবর্তী, অর্থাৎ পঞ্চম পর্যায়ে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই জনবলকে বেকার না করে তাঁদের চাকরিতে বহাল রাখা এবং নগর স্বাস্থ্যসেবাকে টেকসই করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অভিজ্ঞ জনবল হারিয়ে গেলে শহর এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য পরিচালিত এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের সিনিয়র প্রোগ্রাম মনিটরিং অফিসার মো. আবদুর রহিম জানান, প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি তেজগাঁও কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular