মোহাম্মদ ইউনুছ অভি : বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের পর আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ছয়জন এফডিএমএন সদস্য।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে তাঁদের গ্রহণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় আরাকান আর্মি মোট ৪৩৪ জনকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪৮ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। এখনো মিয়ানমারে ৮৬ জন আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি ও ২১ জন এফডিএমএন সদস্য।
বিজিবি জানায়, আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মানবিক বিবেচনায় ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার আরাকান আর্মির কাছ থেকে ২৪ জনকে গ্রহণ করা হয়। পরে তাঁদের টেকনাফ জেটিঘাটে আনা হয়।
দেশে ফেরত আনা জেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে আটক অবশিষ্ট জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দেড় বছরে আরাকান আর্মির হাতে আটক ৪৩৪ জনের মধ্যে ৩৪৮ জন দেশে ফিরেছেন। এখনো ৮৬ জন মিয়ানমারে আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি। ফলে মিয়ানমারে আটক বাংলাদেশি জেলেদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।




