অপরাধ ডেস্ক: বাংলাদেশের সীমান্তে ইয়াবা পাচার রোধে পুলিশ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ঢুকে পড়ার পর, এটি কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, ফলে ইয়াবার বিস্তার থামানো যাচ্ছে না।
পুলিশ কক্সবাজার ও বান্দরবানের ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এসব চৌকিতে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন এআই মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, সিসিটিভি, মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড এবং স্ক্যানার।
প্রস্তাবিত তল্লাশিচৌকিগুলোতে ৩২১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক বলেন, ইয়াবা ঢুকতে দেওয়া হবে না—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ইয়াবার প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায়, পুলিশ পুরোনো সড়ক ও পাহাড়ি পথগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে চায়। এতে করে ইয়াবা পাচারের রুট বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনটি স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারিদের শনাক্ত করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, পাচারের রুট বন্ধ করা জরুরি। প্রযুক্তিগত এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
পুলিশের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, সীমান্ত থেকে শহরে পৌঁছানোর আগেই ইয়াবা চালান আটকে দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে।




