আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনী সম্পর্কে গোপন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে ‘কিছুটা’ সহায়তা করছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তা করছে ইউক্রেনকে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অবস্থানের তথ্য ইরানের সঙ্গে বিনিময় করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সহায়তা করছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছিলেন, রাশিয়ার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছিল, তারা তেহরানের ইরানি সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে না।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, তিনি (পুতিন) সম্ভবত তাদের কিছুটা সহায়তা করছেন। সম্ভবত তিনি ভাবছেন, আমরা ইউক্রেনকে সহায়তা করছি।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে কেবল রাশিয়া নয়, চীনের মতো বিশ্বশক্তিগুলোও একই ধরনের সমীকরণ মাথায় রেখে কাজ করে। তারা হয়তো মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন পক্ষকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই তারাও তাদের মিত্রদের একই উপায়ে সমর্থন দিতে পারে। এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।
এর আগে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সম্ভাব্য প্রভাবকে খুব একটা পাত্তা দেননি।
গত ৭ মার্চ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি তারা করেও, তারা খুব বেশি ভালো কাজ করছে না। ইরান খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই।’
প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। একইসঙ্গে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। বাড়তে থাকা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তিনি রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপরই তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন।



