নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ-পূর্ব মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনার সুতোর গিঁট কড়া হলো, তার মধ্যে গত কয়েক দিনে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপক সামরিক পাল্টাপাল্টি ঘটেছে। ইরান দাবি করেছে তারা প্রতিহত হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করেছে।
একই সাথে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি স্থাপনায় আঘাতের কথা বলা হয়। ইসরাইলের সাথে বিরোধের প্রেক্ষিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ক্ষতিসাধনের বিবরণ প্রচার করেছে, আর তেহরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর নিরাপত্তা নিয়ে জিজ্ঞাসা উঠেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল শান্তির আহ্বান করেছেন।
ঘটনার সারমর্ম অনুযায়ী, ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের ইসরায়েলের বিমান বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিস্তৃত আঘাত করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে এবং শতাধিক যুদ্ধবিমান অভিযানে ছিল।
ইরানের পাল্টা হামলার রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো : কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ—উক্ত আঘাতে প্রভাবিত মার্কিন স্থাপনা ও রাডার সার্ভিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি বিশেষ করে দোহায় থাকা একটি উন্নত রাডার সিস্টেম ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যাখ্যা ও তথ্য উপাত্তে দুই পক্ষই তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ইরান পক্ষ এবং ইসরায়েল-যুক্ত যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক উত্তেজনার উত্তাপ দ্রুত ছাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে ইউরোপীয় নেতারা ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাষ্ট্রনায়করা জাতিসংঘে আঞ্চলিক উত্তেজনার ঘটনা আলোচনা করানোর ঐক্যর চেষ্টায় রয়েছেন।
মানবিক প্রভাবও তীব্র। ইরানী সূত্র বলছে কিছু প্রদেশে ন্যায়হীন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যম ও ত্রাণদল জন জানায় বেসামরিক প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং চিকিৎসা-সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধ কার্যক্রমে কিছু বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাতের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্ব সমাজ এখন শান্তি ও সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে, উভয়পক্ষকে ক্ষেপণাস্ত্র-প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান এগুলোই সীমান্তহীন উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া।
বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গ বলছেন, মুহূর্তেই উত্তেজনা কমানো না গেলে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন বিপুলভাবে প্রভাবিত হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




