নিউজ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মুখে ইসলামি রাজনীতির কথা বললেও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতের শেখা উচিত। জামায়াতের সব কার্যক্রম ও কথাবার্তা ইসলামের সঙ্গে এক ধরনের দ্বিচারিতা ও মোনাফেকি আচরণ, যা দেশের জনগণ কখনো প্রত্যাশা করে না। মাঠ-ময়দানে তাদের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে লড়াই করার পর, মাত্র সাত মাসের একটি সরকারকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সহযোগিতা না করে কেন তারা লংমার্চের ডাক দিচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করাই এখন সবার মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। কিন্তু জামায়াতের সেদিকে মনোযোগ নেই। তারা ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এবং ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জামায়াত মুখে সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বললেও অন্তরে ভিন্ন কিছু ভাবছে। তারা কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, সেই চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
রাশেদ খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা আগামী ডিসেম্বর মাসকে রাজপথের আন্দোলনের জন্য বেছে নিয়েছে। বিজয়ের এই মাসে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরাও রাজপথে থাকব। যারা সরকারকে ব্যর্থ করতে আন্দোলন করবে, দেশের মানুষ তাদের শক্ত হাতে রুখে দেবে।
আজকের এই সাক্ষাতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন এবং দেশবাসীকে ইসলামি মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের নেতা তৌহিদ এবং ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।



