নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার এক কেন্দ্রবিন্দু এখন আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন। রিটার্নিং অফিসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল ইসিতে জমা পড়েছ। অধিকাংশ আবেদন প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা হয়েছে। আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে, এ আপিলশুনানি সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট করে শুনানির নম্বর বরাদ্দ করা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারির মধ্যে মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন; যার ফলে এখন পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৮৪২ জন। আপিলের শুনানি শেষ হলে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন; চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি, আর প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। সবকিছু ধাপে ধাপে তফসিলমতো এগোলেই ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
শুনানিতে রাজনৈতিক প্রকৃতি ও গুরুত্ব পাচ্ছে, বহু আপিলই এমন আবেদন—যেগুলোতে দাবি করা হচ্ছে যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার হয়নি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রকে অনুচিতভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া মানেই স্থানীয় স্তরে দলের নির্বাচনী উপস্থিতি পুনরুদ্ধা।
তাই দলের কৌশলগত মোড়—বিশেষত যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাতে এই শুনানির রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আদালত, আইনি পথের পাশাপাশি ইসির এই আপিল প্রক্রিয়া এখন রাজনৈতিক মোকাবিলার একটি দরজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লক্ষ্য করা যায়, সেখানে আইন, রাজনীতি ও জনমানসিকতা একই সাথে কাজ করে।
বড় রাজনৈতিক দলগুলো—ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জোটসমূহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা—আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল মনিটরে রেখেছে এবং তাদের মাঠ-নিওজিত কৌশল তৈরি করছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেলে দ্রুতই প্রচারণা ও সমাপ্তি তালিকা অনুযায়ী মাঠে নামবেন। না পেলে বিকল্প বন্ধন ও একাধিক আসনে সমঝোতার পথও খোলা রাখছে অনেক জোট।
নির্বাচনী কৌশলে এখন দুইটি ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি হচ্ছে আক্রান্ত আসন পুনরুদ্ধার করে সরাসরি প্রতিযোগিতা, আর অন্যটি কৌশলী সমঝোতা করে একচেটিয়া শক্তি তৈরি করা, যা বিশেষত সংক্ষিপ্ত সাধারণতা ও জয়যোগ্যতার লক্ষ্যকে সামনে রাখে। এই নীতিগুলো বিভিন্ন দলের অধিকারী ব্যাখ্যায় সামনে এসেছে।
ইসি ও স্বচ্ছতার আশ্বাস দিয়েছেন। ইসি’র পক্ষ থেকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বারবার আন্তরিক নীতিতে রায় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন—“ইনসাফে আমরা বিশ্বাসী; আইন অনুযায়ী যা হবে, তাই হবে” —এই প্রতিশ্রুতি শুনানির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছে। তবু সময়সীমা ও বিপুল সংখ্যক আপিল প্রক্রিয়াকে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইসির কর্মসূচি যথাসময়ে শেষ না হলে তফসিলেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে, যা আবার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অনিশ্চিততার কাছে ঠেলে দিতে পারে।
অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনৈতিক কৌশলে কিছু দল শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ রাস্তায় এগোচ্ছে, অর্থাৎ আপিল প্রক্রিয়ায় আস্থা রেখে আইনি লড়াই চালাচ্ছে ও ইসি’র সিদ্ধান্তকে সম্মান করে পরবর্তী কৌশল সাজাচ্ছে। অপরদিকে কয়েকটি দিক থেকে তীব্র সমালোচনা ও মাঠ-সংগঠনের বিকল্প কৌশলও দেখা যাচ্ছে—যেখানে দুর্বল আশঙ্কা থাকলে নির্বাচনী ব্যানারে কৌশলগত জোট বা প্রতিরোধের পথও অনুসন্ধান করছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। এই দ্বৈত কূটনীতিক কৌশলই আগামী সপ্তাহগুলোতে ভোটপ্রক্রিয়ার গতি নির্ধারণে বৃহৎ ভূমিকা রাখবে।
১) আপিল শুনানি চলাকালীন সময় রায়ের ওপর নজর রাখা জরুরি, কারণ এক একটি রায় নির্দিষ্ট আসনের রাজনৈতিক চেহারা বদলে দিতে পারে।
২) ইসির ফলাফল মেনে চলা হলে ২০ জানুয়ারি পরবর্তী ধাপে বড় পরিবর্তন আসবে, প্রতীক বরাদ্দ (২১ জানুয়ারি) ও প্রচারণার শুরু (২২ জানুয়ারি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
৩) আপিল থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও মাঠে জয় পেতে স্থানীয় প্রস্তুতি ও সমন্বিত কৌশল অপরিহার্য, তাই দলগুলো এখনই মাঠ ও আইনি দুটোতেই কাজ চালাচ্ছে।
ইসির আপিল শুনানি কেবল আইনী দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের এই নির্বাচনী মুহূর্তে রাজনৈতিক কৌশল, জনসচেতনতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের পরীক্ষা।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া বা না পাওয়া—দু’ফলই প্রতিবার ভিন্ন রকম রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা ও পরিকল্পনা উদ্রেক করবে।
নির্বাচনের পথে এই আপিল-পর্বই এখন মূল গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র; যেখানে আইনের ধারা, ইসির রূপরেখা ও রাজনৈতিক কৌশল সমান্তরালে চলে—আর সবশেষে ভোটকক্ষেই বিষয়টির সত্যিকার বিচার হবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




