নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবিকা প্রধানত মৎস্যচাষ, চিংড়ী ও কাঁকড়া রপ্তানি, এবং লবণ সহনশীল ফসল উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। তবে এসব মানুষের দিন কাটে অনাহারে, অর্ধাহারে ও বাড়ী-বিত্ত হারানোর ভয় নিয়ে।
বঙ্গোপসাগর ও নদীভিত্তিক এলাকাগুলো বারবার বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের শিকার হয়। ঘরবাড়ি, চাষাবাদ, মাছের ঘের সহ সকল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেসব সাইক্লোন সেন্টার বানানো হয়েছে, সেখানে সীমিত সংখ্যা ও অসুবিধাজনক অবস্থার কারণে মানুষকে গাদাগাদি করে থাকা লাগে।
দুর্যোগ পরবর্তী সরকারি ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছাতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে অনেকাংশে ধোঁকাবাজি ও লোপ পেয়ে যায়। অনেকবার দেখা গেছে বরাদ্দের অর্থ ঠিকমত না পৌঁছানোর ফলে মানুষ আগের মতোই দুর্দশার মধ্যে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও টিকে থাকার জন্য টেকসই কংক্রিটের বেড়িবাঁধ, উন্নত সাইক্লোন সেন্টার, পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা জরুরি। সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন ও রপ্তানি অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকেও নজর দিতে হবে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, “প্রতি বছর ঘটে যাওয়া দুর্যোগ আমাদের সব কিছু ভেসে নিয়ে যায়। সরকারি সহায়তা অপ্রতুল। আমাদের একমাত্র চাই টেকসই বেড়িবাঁধ ও নিরাপদ আশ্রয়।”
সরকার ও নীতি-নির্ধারকদের কাছে এই অঞ্চলের মানুষের আবেদনের সারমর্ম—দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়।



