নিউজ ডেস্ক : জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-এর গোপনীয় তথ্য চুরি ও অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর এক কর্মচারীসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এনআইডি-র ডেটাবেসে অনধিকার প্রবেশ করে তথ্য পরিবর্তন, ভুয়া তথ্য সংযোজন ও ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয়-পক্ষের কাছে বিক্রি করছিলেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে চক্রটি মাসের শেষ দিকে কোটি টাকারও বেশি আয় করত। তারা নানা পদ্ধতিতে এনআইডি সংশোধন করে এবং চাহিদানুযায়ী ব্যক্তি-নির্ধারিত তথ্য তৃতীয়-পক্ষকে পাঠিয়ে দিত, এখানেই বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হতো। সিআইডি ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত থাকতে পারে তা তদন্ত করছে এবং বিস্তারিত জানাতে শিগগির একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কী ধরণের প্রযুক্তিগত ঢুকছে বা কীভাবে সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ সম্ভব হয়েছিল, তা তদন্তকারীরা খুলে দেখছেন। ইসি-র আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও তৃতীয়-পক্ষের সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে; অতীতেও এনআইডি-ডেটার অনিয়ম ও তথ্যফাঁসের মামলার ইতিহাস আছে, যার ফলে এই ঘটনাটি জনসাধারণের তথ্য-সুরক্ষা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বাজারজাতকরণ ও বিক্রির অভিযোগগুলো দেশের সাইবার-নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করা হচ্ছে। সাইবার আইন ও তথ্য নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী দোষীরা দণ্ডিত হবেন, তবে খতিয়ে দেখার বিষয়, ইসি-র অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকলে তা কীভাবে সংস্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হতে পারে।
সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়েছে, নাগরিকরা জানতে চায় তাদের এনআইডি-র তথ্য কার কাছে পৌঁছে গেছে, ব্যাংকিং বা অন্য কোনো সেবায় তা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ফ্রড প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেকোনো অনলাইন বা টেলিকম অ্যাকাউন্টে দুই ধাপে যাচাইকরণ চালু রাখুন, সন্দেহজনক লেনদেন নজর রাখুন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাবেন।
সিআইডি-র তদন্ত চালু থাকায় আরও বিবৃতির জন্য কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন এবং ইসি-র আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করা হবে। ফলাফল পাওয়া মাত্র সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




