নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের দেশগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলে এশিয়ার বাজারে বাড়তে পারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক পণ্য গবেষণার কো-হেড সামান্থা ডার্ট গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে এমন পূর্বাভাস দেন। খবর রয়টার্স।
সামান্থা ডার্ট বলেন, ‘সরবরাহ কমে গেলে এবারের শীতে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউয় ২০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে ইউরোপের দেশগুলোর অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহের অভাব, ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে কমতি ও শীতের শুরুতেই স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় কম তাপমাত্রা।’
সামান্থা ডার্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে আসন্ন এলএনজি সরবরাহ প্রকল্পগুলোয় বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটিও ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চুক্তির মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। তাই পরবর্তী গ্রীষ্মে ইউরোপের এলএনজির বাজার আরো কঠিন পরিস্থিতিতে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বাজার এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এশিয়ার দেশগুলো বৈশ্বিক এলএনজির ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে। অথচ এ দেশগুলো উৎপাদন করে মাত্র ৩০ শতাংশের বেশি।’
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি করে চীন। গোল্ডম্যান স্যাকসের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটি ৮০ লাখ টনের বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারে। তবে আগামী বছর এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসতে পারে।
সামান্থা ডার্ট বলেন, ‘চীনের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাথমিক ব্যবহারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আগামী বছর চীনের এলএনজি ব্যবহার কমে আসবে।’
চীন চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যা ২০২১ সালের রেকর্ড ৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার টনের তুলনায় কিছুটা কম।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য গত সপ্তাহে ছিল ১৪ ডলার ৬০ সেন্ট। এ বিষয়ে রাবোব্যাংক লন্ডনের এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট ফ্লোরেন্স স্মিথ বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়নি।



