অভ্র বড়ুয়া
জুনাহি রত্তানের অবিস্মরণীয় সৃষ্টি দেখল আহমেদাবাদ। আহমেদাবাদের অভিব্যাক্তি ৭ম পর্ব; দি সিটি আর্ট প্রজেক্ট এর মঞ্চে উঠতেই যেন আলো বদলে গেল। শত শত দর্শকদের ভেতর এক অদৃশ্য কম্পন ছড়িয়ে পড়ল আর মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের নয়ডার ওড়িশী নৃত্যশিল্পী জুনাহি রত্তন।তাঁর আমন্ত্রণে তিনবার ’অঙ্গ রাগ’ প্রযোজনা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার এবং প্রতিবারই মনে হয়েছে আমি নতুন করে এক আধ্যাত্মিক ঋতুচক্রে ভ্রমণ করেছি।
১৮ বছর বয়স থেকে নৃত্যকে সাধনার পথ হিসেবে বেছে নেওয়া জুনাহি গুরু মণোরঞ্জন নায়েকের শিষ্যা, পরে গুরু রসেশ্বরী নায়েকের স্নেহ-নির্দেশনায় ভারতজুড়ে ভ্রমণ ও পরিবেশনা শুরা তাঁর। শুধুমাত্র ওড়িশী নয় কথক, ঘুমর ও কালবেলিয়া নৃত্যের প্রাথমিক চর্চা তাঁর শরীরী ভাষাকে দিয়েছে গভীরতা, দিয়েছে ছন্দের পরিমিত বিস্তার।
‘অঙ্গ রাগ’ নিরাশার শীত থেকে আশার বসন্ত, অস্থিরতার ঝড় থেকে শান্তির নীরবতা প্রকৃতির ঋতুচক্র যেন মানুষের অন্তর্জগতের প্রতিচ্ছবি। লাল দেদের দোহা ও কবিরের বাণী থেকে অনুপ্রাণিত এই নৃত্যনাট্য কেবল দৃশ্যত নয়, অনুভবেও বহন করে এক অনন্য পরিণতির শৈল্পিক পথ।
যখন মঞ্চের আলো ধীরে ধীরে রঙ বদলায়, শিল্পীর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি কখনো দীপ্ত, কখনো অন্ধকারে ডুবে থাকা, কখনো ভাঙা-জোড়া লাগা মানুষের অন্তঃসত্ত্বার যন্ত্রণা আর মুক্তির গান হয়ে ওঠে। তাঁর গতি কখনো নদীর স্রোতের মতো স্থির, আবার কখনো ঝড়ের মতো ছুটে যায়।দর্শক বুঝে ওঠার আগেই আবেগ ভেঙে পড়ে হৃদয়ের ভেতর।
তাঁর নৃত্যের ভেতর যে শুদ্ধতা, যে নিবেদন, যে নীরব দহন তা চোখে নয়, হৃদয়েও টের পাওয়া যায়।মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শিল্পী শুধু নাচেন না তিনি অভিনিবেশের ভাষা, শরীরের কবিতা ও আত্মার স্পন্দনকে নিমিষে একাকার করে দেন।
‘অঙ্গ রাগ’ শুধু একটি নৃত্যনাট্য নয়। একজন শিল্পীর দীর্ঘদিনের সাধনার পরিণতি, বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবের রূপ নেওয়ার মুহূর্ত আর দর্শকের জন্য এক নীরব আত্ম-অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ।
অভিব্যক্তি হলো আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত এক অনন্য শহুরে শিল্পোৎসঅেএ আয়োজনে নাটক, নৃত্য, সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল আর্ট, সাহিত্য সহ নানা শিল্পরূপ একত্রে উদযাপিত হয়। শিল্পীদের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে তারা নিজেদের ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং পরীক্ষামূলক কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পারেন।৭ম পর্বে ভারতের ১৬টি রাজ্য থেকে মোট ১৪০ জন শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এ উৎসবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ১৭ দিনের এ উৎসবের পর্দা নামবে।



