নিউজ ডেস্ক : অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) ৩টি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি ২টি ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল পৌনে দশটায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে ৩টি ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পানি স্বল্পতার কারণে ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২ ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট চালু অবস্থায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরও জানান বর্তমানে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৮০ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু পানি আছে ৮১ এমএসএল। ফলে পানি স্বল্পতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে সহসা ভারি বৃষ্টিপাত হলে হ্রদের পানি বাড়বে এবং একইসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে।
৬৮ থেকে ৬৯ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল ৭০ এমএসএলের নীচে নেমে গেলে উৎপাদন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যাবে। অপরদিকে কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এদিকে, কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি হ্রদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।



