নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুর পৌর বাস টার্মিনালে ঢুকতেই চোখে পড়ে কর্দমাক্ত সড়ক। কোথাও বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও জমে আছে পানি। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠছেন-নামছেন যাত্রীরা। নষ্ট অবকাঠামো, অচল মূল ফটক ও ভাঙা সীমানাপ্রাচালের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসচালক, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের।
দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত টোল আদায় করা হলেও টার্মিনালের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। কাদার কারণে কোথাও হাঁটাচলা করাও কঠিন। এর মধ্যেই বাস চলাচল করছে। খানাখন্দে বাস আটকে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
টার্মিনালের মূল ফটকটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে অনেক সময় টার্মিনালের পরিবর্তে প্রধান সড়কেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হচ্ছে। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি।
টার্মিনালের সীমানাপ্রাচালেরও বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এতে গাড়ি ও চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাতে টার্মিনালে পর্যাপ্ত আলোও থাকে না। বৈদ্যুতিক বাতিগুলো ঠিকমতো জ্বলে না। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বাস টার্মিনালের মাঠ নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৮ সালের দিকে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির অবস্থাও নাজুক। ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকেরা বলেন, টার্মিনালের সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। বৃষ্টি হলে কাদা ও পানির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠতে হয়। দ্রুত টার্মিনালটি সংস্কারের দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা টার্মিনালের নাজুক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হচ্ছে না।
সম্রাট খীসা বলেন, আধুনিক পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা আরইউটিডিপির আওতায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।




