নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছেন। এবার বাঙালির নববর্ষ একেবারেই নির্বাচনকালীন সময়ে। কিন্তু বাঙালির উৎসবে তা একেবারেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। উল্টো নববর্ষকে হাতিয়ার করে ভোটের প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। এমনকি ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার থিমেও ছিল রাজনীতির ছোঁয়া।
গান-কবিতার পাশাপাশি কৌশলে নিজেদের প্রচারণা সারছেন প্রার্থীরা। এদিন সকালে বাংলার মনীষীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে প্রচারে বের হতে দেখা যায় বরানগর আসনের সিপিআইএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্রকে। নাচে গানে কবিতায় একেবারে ভিন্ন ছকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বৃহৎ আয়োজনে নববর্ষ পালন এবং তার মাধ্যমেই জনসংযোগ করেছেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব।
নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে, সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে সুকৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়। ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ‘এই বাংলাকে যদি ভালো রাখতে হয়, তবে অন্য কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান তবে দয়া করে ২৯৪ আসনে আমার প্রার্থীকেই জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দেবেন।’ এর আগে কালীঘাটে পূজোও দেন মমতা।
প্রধান বিরোধীদল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শামিক ভট্টাচার্যও পিছিয়ে থাকেননি । রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার আসছে পশ্চিমবঙ্গে, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে। আপনাদের কথা আপনাদের ব্যথা আপনাদের আবেগ স্পর্শ করে আমরা একসাথে এগিয়ে যাব।’
নতুন বছরের শুরুটা কালীঘাট মন্দিরে সস্ত্রীক পুজো দিয়ে শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। ধুতি পাঞ্জাবি পরে বাঙালিয়ানা সাজে বছরের শুরুতেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যপাল।
অন্যদিকে চলতি বছর কলকাতার মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ, শোভাযাত্রার থিম, ‘বাঙালির নাগরিকত্বের সংকট!’। নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এর কারণে নাগরিকত্ব হারিয়ে নতুন করে বাঙালির উদ্বাস্তু হওয়ার চালচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন নারীর মাথায় বাক্স পেটরা নিয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার পটভূমি, মাথায় ধরে থাকা সেই বাক্সে লেখা রয়েছে, ‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়।’



