নিউজ ডেস্ক: কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যিক বিরোধের প্রভাব পড়েছে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পর্যটন খাতে। বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর পর্যটন ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বর্জনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন মেয়র।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে সম্প্রতি কানাডীয়দের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, ম্যানিটোবাসহ পুরো কানাডার মানুষকে তারা স্বাগত জানাতে চান। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কানাডীয়দের আবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আসার আহ্বান জানান।
একই আহ্বান জানিয়েছেন নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ফার্গো শহরের মেয়র জশ বোশি। তিনি বলেন, নর্থ ডাকোটার মানুষ সবসময় কানাডীয়দের প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের মতো মনে করেন। তাদের আবার সেখানে দেখতে চান। কানাডীয় পর্যটকদের অনুপস্থিতি স্থানীয় ব্যাবসা ও পর্যটন খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কানাডীয়দের যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ফিরে আসা কানাডীয় ভ্রমণকারীর সংখ্যা ছিল ৩০ লাখের বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২৩ লাখে দাঁড়ায়। এখনও তা বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে আসেনি।
ম্যানিটোবা ও নর্থ ডাকোটার মধ্যকার পেম্বিনা-এমারসন সীমান্ত পথেও এর প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ওই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে যায়। নর্থ ডাকোটার পর্যটন ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ম্যানিটোবার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে কানাডীয় ও মার্কিন নাগরিকদের সীমান্তের দুই পাশে ভ্রমণে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।
তবে কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কমে যাওয়ায় ম্যানিটোবার নিজস্ব পর্যটন খাত কিছুটা লাভবান হচ্ছে। পর্যটন সংস্থা ট্রাভেল ম্যানিটোবার তথ্যমতে, প্রদেশটির পর্যটন শিল্পের বার্ষিক অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি কানাডীয় ডলার এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ হাজার কর্মসংস্থান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে বহু ছোট ও মাঝারি আকারের এবং পারিবারিক ব্যাবসা রয়েছে।
বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক যোগাযোগ ও পর্যটন সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মার্কিন মেয়রদের সাম্প্রতিক আহ্বানও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ম্যানিটোবার বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা কানাডীয়দের দেশেই ভ্রমণ ও স্থানীয় ব্যবসায় অর্থ ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।



