নিজস্ব প্রতিবেদক : জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের হুমকি ও ধারাবাহিক হয়রানির আশঙ্কায় নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীদের আপন ভাই, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কে . এম. আসাদুজ্জামান। তিনি সম্প্রতি মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটি রেজিস্টারভুক্ত হয়েছে আবে দনপত্র নং–১৮২, তারিখ: ১১ই জানয়ুারি ২০২৬। একই সঙ্গে তিনি বাগেরহাটের পুলিশ সুপার বরাবরও পৃথক আবেদন দাখিল করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানাধীন হিজলা গ্রামে কে . এম. জিন্নাহ ও তার স্ত্রী হেনোয়ারা খাতুন তাদের বৈধ ও নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তারা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করলে ও বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগে বলা হয়, পার্শ্ববর্শ্বর্তী জমির মালিকের শ্বশুর কাজী আবুসালেহ (পিতা: আলতাফ হোসেন কাজী) ও কালা (পিতা: রতন কাজী), মালিকের আপন ভাইসহ জোরপূর্বক ওই জমির ভেতর দিয়ে পথ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বিষয়টি মানছে না।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনযুায়ী, জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্টদের কাছে কারণ দর্শাইবার নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে ওই নোটিশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে অভিযুক্তরা আরও খিপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে । এরপর থেকেই তারা প্রকাশ্যে নানা ধরনে র হুমকি -ধামকি দিতে শুরু করে ।
পরিবারটির দাবি, অভিযুক্তরা নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে , মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ভয় দেখাচ্ছে এবং এমনকি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও প্রদান করছে । এতে করে ওই পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক, ভয় ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় অবশেষে কে . এম. জিন্নাহ নিজের এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিতলমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি ডি ) করেন। থানায় দায়ের করা ওই জি ডির নম্বর ৬২৯, তারিখ ১৩ জানয়ুারি ২০২৬। জি ডি তে কারণ দর্শাইবার নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের হুমকি মলূক আচরণ, আগ্রাসী তৎপরতা এবং সম্ভাব্য অগ্নি সংযোগের আশঙ্কার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।
আবেদনকারী সাংবাদিক কে . এম. আসাদুজ্জামান আবেদনে উল্লেখ করেন, তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে ঢাকায় অবস্থান করলেও দূরে থেকেও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তার ভাষ্য অনযুায়ী, আদালতের কারণ দর্শাইবার নোটিশের পরও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সচেতন মহলের মতে, আদালতের কারণ দর্শাইবার নোটিশ পাওয়ার পরও যদি প্রকাশ্যে প্রাণনাশ ও অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়া হয়, তবে তা আইনের প্রতি অবজ্ঞার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। তারা মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে হুমকি দাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়ে যেতে পারে ।
এ অবস্থায় সংশ্লি ষ্টদের দাবি —ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারণ দর্শাইবার নোটিশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই হুমকি মলূক পরিস্থিতির অবসানে প্রশাসনের জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি ।



