নাজমুল হোসেন : কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বর্ষণের কবলে পড়ে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় দুই উপজেলা রামগতি ও কমলনগরের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পানি জমতে শুরু করেছে। অতীত অভিজ্ঞতায় সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ভুলুয়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
রামগতির বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘দুই দিনের বৃষ্টিতেই উঠানে পানি জমে গেছে। নদীটা যদি খনন না করা হয়, তবে এবার আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, চলমান কালবৈশাখীর তাণ্ডব অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বর্ষা মৌসুমে নদী খনন না হলে গত বছরের মতো ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
শুধু বসতঘর নয়, ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষকের কষ্টে বোনা ফসলও। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ারও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফসলের ক্ষতি ও গবাদিপশু রক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ভুলুয়া নদী খননের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপকূলবাসীর মতে, অকাল এই বর্ষণ এক ধরনের সতর্কবার্তা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পুরো এলাকা।




