আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারি করার পর থেকে দেশটির রাজনীতির মাঠ ছিল টালমাটাল। এ প্রেক্ষিতে ইউনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বড় সংকটের মুখে পড়ে যায়। এতে শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষায় গত ৩ ডিসেম্বর আকস্মিক সামরিক আইন জারি করেন তিনি।শেষ পর্যন্ত আবার তাকে তা উঠিয়েও নিতে হয়।
এ অবস্থায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে দ্বিতীয় দফা অভিশংসন ভোটের মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক। পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে অংশ নেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। এএফপি সূত্রে এ খবর জানা যায়।
এ বাস্তব অবস্থায় ক্ষমতায় থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা।
বাড়াবাড়ি ও সংঘাতের রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইউন বলেন, পার্লামেন্ট তাকে পদচ্যুত করার পরই দায়িত্ব থেকে তিনি সরে যাবেন।
টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, যদিও আমাকে এখন কিছু সময়ের জন্য সরে যেতে হবে, তবে আগামীর দিকে যাত্রা কখনই থামবে না।
সিউলের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের সমর্থনে অন্তত ২ লাখ মানুষ পার্লামেন্টের বাইরে ভিড় করেছিল।
ভোটের পর রাস্তায় নাচছিলেন ৫২ বছর বয়সী চোই জুং-হা। এএফপিকে তিনি বলেন, এটি কি আশ্চর্যজনক নয় যে, আমরা সবাই মিলে এটি বন্ধ করে দিয়েছি?
তিনি আরও বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে, সাংবিধানিক আদালত অভিশংসনের পক্ষেই থাকবে। সিউলের অন্য দিকে গওয়াংওয়ামুন স্কয়ারের কাছে পুলিশের অনুমান মতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ইউনের পক্ষে সমাবেশ করেছিল। এ সময় তারা দেশাত্মবোধক গান বাজিয়েছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকান পতাকা নেড়েছিল।
ভোটের আগে ৬২ বছর বয়সী সমর্থক চোই হি-সান এএফপিকে বলেন, সামরিক আইন জারি করা ছাড়া ইউনের আর কোনও বিকল্প ছিল না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি তার প্রতি সম্মতি জানাই।



