ঢাকা  সোমবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আজও পূর্ণতা পায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আজও পূর্ণতা পায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ সম্পর্কে সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা আজও পূর্ণতা পায়নি। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ এই তিন সময়ের চেতনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এ ছিল সামাজিক সুবিচার, মানবিক র্মযাদা ও বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিক প্রকাশ।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের (বিসিএফসিসি) কার্নিভ্যাল হলে আয়োজিত সংলাপে ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ খসড়া উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডি সংলাপে সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের চেতনা এবং দেশের মুক্তবাক মানুষের আশা -আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রণীত হয়েছে নাগরিক ইশতেহার ২০২৫-২৬। ১২টি সুনির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক বিবৃতি এবং তা বাস্তবায়নের প্রায়োগিক ভিত্তি হিসেবে ১০টি জাতীয় নমুনা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

এই নাগরিক ইশতেহারে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে’ একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। মুক্তিযুদ্ধ ছিল রাষ্ট্রগঠনের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর মোড়-যেখানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ এবং বৈষম্যবিরোধী চেতনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের নৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে।’

এই পথ চলায় ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা-উত্তর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, যখন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক শক্তি একত্রে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে।

এই পথ চলায় ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা-উত্তর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, যখন নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক শক্তি একত্রে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে।

রাষ্ট্রের উপরি কাঠামোর বিভিন্ন পরিবর্তন হলেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন রয়ে গেছে অসম, ভঙ্গুর এবং নানা সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। বিশেষত গত দেড় দশকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া, প্রতিষ্ঠানগত দুর্নীতি, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন এবং নাগরিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার প্রবণতা গভীর শাসন-সংকট তৈরি করে। বৈষম্য, বঞ্চনা এবং সুশাসনের ঘাটতির এই পুঞ্জীভূত বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত সামনে আনে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। এটা ছিল ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে কর্তৃত্ববাদী শাসন, ভয়ভীতি ও জবাবদিহিহীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও জোরালো প্রত্যাঘাত। এই অভ্যুত্থানে উচ্চারিত হয় একটি স্পষ্ট উপলব্ধি-এটাই সময় অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের।

রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার, নির্বাচন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা নতুন গুরুত্ব ও তাগিদ পেয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন।

একটি বৈষম্যবিরোধী ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, জীবন ধারণের প্রথাগত চিন্তার বাইরের মানুষগুলো ও প্রান্তিক ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রচিন্তা ও নীতি-আলোচনার কেন্দ্রস্থলে তাদের কণ্ঠস্বরকে স্থান দিতে হবে। এই রূপান্তরকালীন অতীতের মতো আবার হতাশা যেন ফিরে না আসে এবং চলমান সংস্কারের গতি যেন ব্যাহত না হয়-এই উপলব্ধি থেকেই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পরমত সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানবোধ, বৈষম্যবিরোধীতা ও ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন, মানবিক ও সম্মানজনক জীবনমান, মানসম্মত নাগরিক পরিষেবা, জলবায়ূ পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ভারসাম্য এইসব নাগরিক প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন প্রত্যাশার দিক সমুহ উপস্থাপিত হয়েছে। 

আলোচনায়, একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট গঠনের পথে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানানো হয়।

সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক রওনক জাহান, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জামায়েত নেতা মজিবর রহমান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, এবি পার্টির সভাপতি মজিবর রহমান মঞ্জু,, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মুন্নি সাহা চক্রবর্তী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: তাসনিম জারাসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular