রাশিদুল রাশেদ, বন্দর প্রতিবেদক: কনটেইনারগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে না পারায়—কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত পণ্য যাচাই করতে পারছে না, তদন্ত শেষ করতে পারছে না এবং শুল্ক জালিয়াতির সন্দেহে থাকা আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপও নিতে পারছে না।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর পর্যালোচনা করা সরকারি চিঠিপত্র থেকে জানা গেছে, চোরাচালান, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা কিংবা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে—কাস্টমসের সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক বা অবরুদ্ধ করে রাখা—২৫০টি কনটেইনারের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করতে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গত ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) বারবার তাগিদ দিয়েছে।
কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) শাখা থেকে চলতি বছরের এপ্রিলে পাঠানো সর্বশেষ তাগাদাটির আগে একই তথ্য চেয়ে অন্তত তিনটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত সেসব কনটেইনারের অবস্থান জানাতে পারেনি।
এদিকে হদিস না মেলা কনটেইনারগুলোর তালিকায় ২০২১ সালের ৮৩টি; ২০২২ সালের ৬১টি; ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি কনটেইনার রয়েছে। কাস্টমসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এই চালানগুলো খালাস করার কোনো সুযোগ নেই।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কনটেইনারগুলোর অবস্থানই খুঁজে না পাওয়ায় কোনো ধরনের পরিদর্শন বা তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
“আমরা এই কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তিন থেকে চারবার চিঠি দিয়েছি। আমাদের শেষ রিমাইন্ডার গত এপ্রিলে পাঠানো হলেও– আমরা এখনো কোনো তথ্য পাইনি,” এআইআর শাখার ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদ টিবিএস-কে বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলতে পারছি না যে সবগুলো কনটেইনারই নিখোঁজ রয়েছে, তবে আমরা বন্দরের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। তাই জোরালো একটা আশঙ্কা রয়েছে যে, এর মধ্যে অনেক কনটেইনারই আসলে গায়েব হয়ে গেছে।”




