ঢাকা  বুধবার, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডচাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ তেঘুরিয়ার নোয়াদ্দা গ্ৰামে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ী মোঃ আলী হোসেনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। 

মিথ্যা ও হারামি মুলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে বুধবার স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবর ওই ব্যবসায়ী আবেদন করেছেন। এছাড়া ঢাকার পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার চেয়ে পৃথক আবেদন করেন তিনি। 

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য সেলিম মোল্লার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে পাশের ইউনিয়ন শুভাঢ্যা মিরেরবাগে সংগঠিত মারামারির ঘটনায় আলী হোসেনকে কৌশলে আসামি করা হয়েছে। আইনের শাসন ও দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

জানাগেছে, কেরানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সেলিম মোল্লা স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেনকে ‘চলাফেরার খরচ’ বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে সেলিম মোল্লা ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। তবে বিষয়টি বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মী ও থানায় মৌখিকভাবে জানানো হলে চাপে পড়ে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন সেলিম মোল্লা। এই ঘটনার জের ধরেই গত ৩১ মার্চ শুভাঢ্যা ইউনিয়নে যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হওয়া একটি মারামারির ঘটনায় আলী হোসেনকে ২ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ০৪/১৬৯ দায়েরকৃত মামলায় ৬৪ নম্বর আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া ওই মামলায় আমরা কোন আসামি আটক করছি না। 

ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ী কে কোন ধরনের হয়রানি করা হবেনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অত্যাচারে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারিনি। আমার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত দখল করে মাটি বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এখন নিজের দলের পরিচয় দিয়ে যারা এসব করছে, তাদের সাথে ফ্যাসিবাদের পার্থক্য কোথায়? আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমার এই বয়সে ইয়াং ছেলেদের সাথে মারামারি করতে যাওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। আমি ন্যায়বিচার চাই।

স্থানীয় বিএনপি নেতা জনি (ছদ্মনাম) জানান, আলী হোসেনের পরিবার বিগত সরকারের সময় চরমভাবে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ব্যক্তিগত জায়গার ওপর জোর করে ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণ করে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোল্লা বংশের কিছু উশৃঙ্খল সদস্যের কারণে পুরো এলাকার বদনাম হচ্ছে। এমনকি অভিযুক্ত সেলিম মোল্লা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ‘অন্য সেলিম মোল্লা’র ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. লিয়াকত খাঁন স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের মামলায় অনেক সময় স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ থাকে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভিডিও ফুটেজ ও অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনাই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, আলী হোসেন নামে কোন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার কোন সমস্যা হয়নি। ‌মামলা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে মামলার বাদী জাহিদুজ্জামান ভাসানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মামলার ৬৪ নম্বর আসামি আলী হোসেনকে চিনতে পারেননি। তার মামলায় আলী হোসেনকে আসামি করার বিষয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular