নিউজ ডেস্ক : ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত রক্ষায় স্বতর্স্ফুত সাহসিকতার উদাহরণ হয়ে যাওয়া কৃষক বাবুল আলীকে (‘বাবলু’) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সংবর্ধনা দিয়েছে।
৫৯ রহনপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের ১০তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও অনুষ্ঠানেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানটিতে উপজেলার প্রশাসন ও বিজিবি-র উচ্চপদস্থরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫-এরই ঘটনাটি গত জানুয়ারিতে চৌকা সীমান্তে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিজিবি বাধা দেন। সেই সময় মাটির বাঙ্কারের পেছনে অবস্থান নেওয়া বিজিবি সদস্যদের পেছনে কাস্তে হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক কৃষকের ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও প্রতিক্রিয়া দিলে বাবুলের সাহসিকতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবর্ধনায় উপস্থিত বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কামাল হোসেন ‘বাবুলের মূর্ত প্রতিজ্ঞা ও স্থানীয় জনগণের সাহস’-কে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, “সীমান্ত রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। বাবুলের মতো উদ্ভাবনী ও সাহসী মনোভাব সবার জন্য অনুকরণীয়।”
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া কৃষকের উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়ে বলেন, “বিজিবির পাশে দাঁড়িয়ে জনসাধারণ যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তা দেশের ভূস্বত্ব রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।”
সংবর্ধিত কৃষক বাবুল আলী বলেন, “আমি নায়ক নই, আমি কেবল দেশের মাটি রক্ষায় দাঁড়িয়েছিলাম। যদি দরকার হয়, আগামীতেও সীমান্ত রক্ষায় আমরা সবাই এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলব। দেশের মাটি কাউকে দখল করতে দেব না; দেশের জন্য প্রাণ পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তুতি রাখব।” তার এই জবানবন্দি গ্রামীণ গৌরব ও নিবেদিতচেতনার প্রতিচ্ছবি বলে উপস্থিতরা অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসচেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে; কয়েকটি পল্লী পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এনজিও-সহ বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনও সীমান্ত রক্ষায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ, চাঁপাইনবাগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ৫৯ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ, চেম্বার প্রেসিডেন্ট আব্দুল ওয়াহেদসহ নানা সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন স্বতঃস্ফূর্ত জনসচেতনতা সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বহুমুখী ভূমিকা রাখতে পারে। বিজিবির অংশগ্রহণ শুধুমাত্র সামরিক মোতাবেক সহায়তা নয়; এটি রাজনৈতিক-কূটনৈতিক স্তরে দেশের অবস্থান দৃঢ় করার ছোট কিন্তু শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
সংবর্ধনা ও সম্মান প্রদানের মধ্য দিয়ে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন এ বার্তা দেয়, দেশপ্রেম ও সীমান্ত রক্ষার দায় শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর নয়; জনসাধারণের সহমর্মিতা ও প্রত্যয়ও সমানভাবে জরুরি। বাবুলের কাস্তে–চিত্র আজ ডিজিটাল যুগে সীমান্ত সচেতনার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে সেই প্রতিচ্ছবিই অধিকতর উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ




