প্রযুক্তি ডেস্ক: আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তাদের ডিভাইসের প্রসেসর তৈরির জন্য স্যামসাং ও ইনটেলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। মূলত তাইওয়ানের চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল সম্প্রতি স্যামসাংয়ের টেক্সাসে নির্মাণাধীন একটি চিপ কারখানা পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি ইনটেলের সঙ্গেও প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সেরেছে অ্যাপল।
বিগত এক দশক ধরে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের প্রসেসর তৈরির জন্য অ্যাপল প্রধানত টিএসএমসির ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে অ্যাপল বেশ কিছুদিন ধরে অস্বস্তিতে আছে।
গত সপ্তাহে অ্যাপলের সাবেক সিইও টিম কুকও সরবরাহ ব্যবস্থায় নমনীয়তার অভাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা বাড়ায় চিপের বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হয়েছে, যা অ্যাপলের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা অ্যাপলকে বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে বাধ্য করছে। যদিও টিএসএমসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় অ্যাপলের কিছু চিপ তৈরি করছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় খুব সামান্য।
২০২৫ সালে অ্যাপল কেবল আইফোন সরবরাহ করেছে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ। এর সিংহভাগ প্রসেসর তৈরি হয়েছে তাইওয়ানে। ফলে সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে স্যামসাং বা ইনটেলকে পাশে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের পরবর্তী আইফোন ১৮ সিরিজের জন্য টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান চিপ তৈরির কাজ পেলেও তা ২০২৭ সালের আগে বাজারে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে টিএসএমসির তুলনায় স্যামসাং ও ইনটেল প্রযুক্তিগতভাবে এখনো কিছুটা পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে ছোট ও কার্যকর চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে তারা ওভারহিটিংয়ের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
ইনটেল তাদের ২০২৮ সালের মডেলগুলোর জন্য অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে স্যামসাং দাবি করেছে, তারা টিএসএমসির আগে ২ ন্যানোমিটার চিপ বাজারে আনবে। অ্যাপল শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




