প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
যশোরের কেশবপুরে ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই কারখানা আবিষ্কারের পর ছয়জনকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে জেলি, তেল ও সোডা মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কেশবপুর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মিলন ঘোষ (৩০), অরূপ ঘোষ (২৯), স্বপন ঘোষ (৬৮), রামপ্রসাদ ঘোষ (২৯), বুদ্ধদেব ঘোষ (২৮) ও পার্থ ঘোষ (১৯)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র গরুর দুধে জেলি, তেল এবং সোডা মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, র্যাব এবং ভোক্তা অধিকার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভেজাল দুধ উৎপাদনের সত্যতা পায়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ওই গ্রামের ছয়জনকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানকালে যশোর ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও র্যাব উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে র্যাব-৬ যশোর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দুধে জেলি ও রাসায়নিক মিশিয়ে যারা সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
একজন সচেতন নাগরিক ৪ সন্তানের জননী রোখসানা আক্তার গৃহিনী তার সদ্যজাত সন্তানরে জন্য খুব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ নাসের বলেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। জনগণকে সচেতন করতে হবে যে, ভেজাল খাদ্য কেবল তাদের স্বাস্থ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একজন কলেজ অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়াতে হবে।
একজন ব্যবসায়ী ও শিল্পী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।




