নিউজ ডেস্ক : হার্ট অ্যাটাক (মায়োকার্ডিয়াল ইনফারশন) খুব দ্রুত জীবনধ্বংসী হতে পারে; অনেক সময় লক্ষণগুলো স্পষ্ট না হয়ে অতি সাধারণ ভাবেই দেখা দেয়।
নিচে দেওয়া ৩০টি সম্ভাব্য সতর্কতামূলক লক্ষণ জানলে সময়মতো সেবা নেওয়া সহজ হয়, সুস্থ্য বুকে চাপের বাইরে নারীরা, বয়স্করা ও ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে লক্ষণগুলো ভিন্ন বা হালকা থাকতে পারে। এই লক্ষণগুলোর বিশ্বাসযোগ্য উৎস ও জরুরি ব্যবস্থা সম্পর্কে যথাযথ মনোযোগ প্রয়োজন।
৩০টি সতর্কতামূলক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ :
১। বুকে বোঝা/চাপ/চেপে ধরে এমন অনুভূতি — কেন্দ্রীয় ক্লাসিক লক্ষণ।
২। বুকে ঘন্টার কাটা-ধরনের চাপ বা জড়তা — কয়েক মিনিট ধরে টিকে থাকা বা বারবার ফিরে আসা।
৩। বুকে তীব্র ব্যথা না থাকলেও অস্বস্তি, পুরুষ প্রজননতন্ত্রে ব্যথা অনুভব।
৪। বুকে ব্যথা কাঁধ, বাহু (বিশেষত বাম হাত) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া।
৫। দাঁত, চোয়াল বা জিহ্বা অঞ্চলে ব্যথা/চাপ (jaw pain) — কখনোই উপেক্ষা করবেন না।
৬। ঘাড় বা ঘাড়ের পিছনে/কাঁধের নিচে ব্যথা বিস্তার।
৭। উপরের পিঠ বা মাঝের পিঠে অপ্রত্যাশিত ব্যথা।
৮। কাঁধ, কনুই বা হাতের ব্যথা—খুব হঠাৎ বা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
৯। শ্বাসকষ্ট — বুকে ব্যথা সহ বা ছাড়া উভয়ভাবে দেখা দিতে পারে।
১০। অস্বাভাবিক ক্লান্তি — বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের মধ্যে বিরল নয়। ক্লান্তি দিনের পর দিন বাড়লে শঙ্কা রাখুন।
১১। হঠাৎ মাথা ঘোরা অনুভব (lightheadedness/dizziness)।
১২। ঠান্ডা ঘাম হঠাৎ শরীরে দেখা দিলে (clammy sweat) — অজানা ঠান্ডা ঘাম প্রানঘাতী আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।
১৩। অবাঞ্ছিত জ্বরের মতো অনিশ্চিত অসুস্থতা / শীতল লাগা — কখনোই হালকাভাবে নেবেন না।
১৪। বমি ভাব বা বমি — বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের সহলক্ষণ।
১৫। হজমজনিত মত আর্তনাদ/অজুহাত অনুভব (indigestion/heartburn) — প্রায়ই মিশ্রিত লক্ষণ।
১৬। বুকের উপরের অংশে পেটজাত ব্যথা বা অস্বস্তি (upper abdominal pain) — কখনো হার্টের ব্যথা এইরকমও হতে পারে।
১৭। দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (palpitations) — হৃদরোগের সহলক্ষণ।
১৮। অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কবোধ—হঠাৎ “ভয়ঙ্কর ভুল বোধ” (sense of doom) অনুভব করা যায়।
১৯। অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা—হাতে-কোলে বা গোটা দেহে হঠাৎ দুর্বল লাগা।
২০। প্রয়াসে সহনশীলতা কমা—চলাফেরায় বা সিঁড়ি চড়ে দ্রুত শ্বাসকষ্ট হওয়া।
২১। দীর্ঘস্থায়ী অনাবশ্যক ক্লান্তি (অলস ভাব) — কখনো কয়েক দিন ধরে থাকা অবহেলা নয়।
২২। নাক বা গলার অস্বাভাবিক ব্যথা যা দাঁতের ব্যথার মতো অনুভূত—হার্টের ব্যথা বিভ্রান্ত করতে পারে।
২৩। স্বভাবিক কাশি বা হুইং করে শ্বাস — শ্বাসকষ্টের অংশ হতে পারে।
২৪। অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি/চর্ম রং ফ্যাকাশে বা নীলাভ দেখানো (cyanosis) — গুরুতর পর্যায়ের লক্ষণ।
২৫। অচেতন হয়ে যাওয়া বা সাময়িক বেহুঁশি (syncope) — অবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
২৬। দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ শারীরিক কর্মক্ষমতার অবনতি — আগের মত কাজ করতে পারছেন না।
২৭। সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বরের মতো “ফ্লু”-ধর্মী লক্ষণ কিন্তু ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি ও নষ্টিকরণ।
২৮। অস্বাভাবিক ধমক বা শ্বাস-নালীর ক্লান্তি (wheezing) — শ্বাসকষ্টের সঙ্গে।
২৯। পাতলা ঘুম, বেডরুমে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট/অস্বস্তি — বিশেষভাবে সন্ধ্যাতে লক্ষ করুন।
৩০। লক্ষণগুলোর মিশ্রণ — হালকা বুকে অস্বস্তি + ক্লান্তি + বমি/ঘাম — এগুলো “সাইলেন্ট” বা অপ্রচলিত হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত হতে পারে।
যদি উপরোক্ত কোন লক্ষণ হঠাৎ দেখা দেয় অথবা একাধিক লক্ষণ একসাথে দেখা দেয়, তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা/হাসপাতালে যান। বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে জরুরি সাহায্য (পুলিশ/ফায়ার/অ্যাম্বুল্যান্স) পাওয়া যায়। স্থানভিত্তিক জরুরি নম্বর জানলে সরাসরি সেবা নিন। জরুরি সেবা/হাসপাতালে যান, জীবন বাঁচানোই সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
তাত্ক্ষণিকভাবে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়া এড়াবেন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন যাতে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা (অক্সিজেন, ইসিজি, প্রয়োজনীয় ডোজ প্রবেশ) পাওয়া যায়।
আগেই চিকিৎসক পরামর্শে আপনাকে অ্যাসপিরিন নিতে বলা থাকলে (অ্যালার্জি না থাকলে) ডিসপ্যাচার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া যেতে পারে। তবে নিজে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চিকিৎসকে কল করে নির্দেশনা নিন।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও পারিবারিক হৃদরোগ ইতিহাস থাকলে নিয়মিত কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন। ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপন পরিবর্তন (নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান ত্যাগ) অপরিহার্য।
উপরোক্ত লক্ষণগুলির কোনোটিই হালকাভাবে নেবেন না। বিশেষত বয়স্ক, ডায়াবেটিক বা নারী রোগীরা ক্লাসিক লক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction) আক্রান্ত হতে পারেন। সন্দেহ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা জীবন বাঁচায়।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




