নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে: জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন গ্রেডভেদে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ চূড়ান্তের পথে নিয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান ১৬টি গ্রেড কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে, ফাইল চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের হার সবচেয়ে বেশি বাড়বে; ফলে মধ্যবিত্ত সরকারি কর্মী তথা সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনের মানোন্নয়নে তা তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব মাথায় রেখে শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো সংযোজনও সুপারিশে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভাতা, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার সুপারিশও করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মীদের মূল দাবি ছিল।
প্রক্রিয়া কেমন চলবে, কমিশনের সুপারিশ পেলে সেটি প্রথমে অর্থমন্ত্রীর কাছে যাবে; অর্থমন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক প্রভাব ও বাজেট প্রভাব যাচাইয়ের পরে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন আশা করছে, সমস্ত ধাপ দ্রুতই সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে—তবে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
বাজেট ও অর্থনীতিবিদরা ইনহাউসে সতর্কতা দিচ্ছেন,মূল বেতন প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারি ব্যয়ের ওপর তা বড় চাপ ফেলতে পারে; সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিরসনে সম্ভাব্য ধারাভাষ্য করা হচ্ছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, শ্রেণি-ভিত্তিক সামঞ্জস্য ও টেকসই অর্থায়ন নীতিমালা চূড়ান্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে আশাব্যঞ্জক, অনেকে এটিকে ইতিহাসকার সমীকরণ বলছেন।
তবে সংশ্লিষ্টরা সমালোচনামূলক দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন—ভাতা পুনর্বিন্যাস ও বাস্তবায়নের সময়সূচি পরিষ্কার না হলে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবে ফারাক দেখা দিতে পারে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




