ঢাকা  সোমবার, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeরাজনীতিজামায়াত গুরুত্ব দিয়েছে যেসব আসনে (তথ্য বিশ্লেষণ)

জামায়াত গুরুত্ব দিয়েছে যেসব আসনে (তথ্য বিশ্লেষণ)

মাহমুদ মীর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে দেশের উত্তরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ভোট সামনে রেখে ১০ দল মিলে জোট করলেও শরিক দলগুলোতে এই অঞ্চলের আসনে খুব কম ছাড় দিয়েছে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ২৯টি মাত্র চারটি ছেড়েছে শরিকদের। আর রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে জামায়াতের ৩৬টি শরিকদের জন্য ছেড়েছে তিনটি। খুলনা বিভাগে আসন বণ্টনে জামায়াত ছাড় দেয়নি বললেই চলে। এ বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৩৫টিই নিজেদের প্রার্থীর জন্য রেখেছে।

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেও জামায়াত বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে জামায়াত রেখেছে ৩৩টি। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০টি আসনের সব ক’টিই নিজেদের প্রার্থীদের জন্য রেখেছে। সিলেটে ১৯টির মধ্যে জামায়াত ১০টি নিজেদের প্রার্থীদের দিয়েছে।

রংপুর বিভাগের ১৭টি ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা আসনের মধ্যে ১৪টি নিজেদের হাতে রেখেছে। রাজশাহী, খুলনা, সিলেটের চিত্রও একই রকম।

ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের চিত্র একটু আলাদা। অধিকাংশ আসনে শরিকদের ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে উত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীতেও প্রায় অর্ধেক আসন ছাড়ছে।

শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে ৮-১০টি ছাড়া বাকিগুলোতে অতীতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল না। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তাদের জোট এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জামায়াত, শরিক দল, দোদুল্যমান এবং বিএনপিবিরোধী ভোট যোগ করলে সারাদেশে সংখ্যাটি বেশ বড়। ফলে শরিকদের দুর্বল আসন ছাড়া হয়নি।

জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা এখন শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এনসিপির শাপলা কলিকেও বেশ গুরুত্বপুর্ণ ভাবা হচ্ছে। জামায়াত নেতারা ভাবছেন, ১৫ বছরের লড়াই-সংগ্রাম এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী ইতিবাচক ভূমিকার কারণে জামায়াত এখন বড় দল। সব আসনেই জামায়াত শক্তিশালী।

জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দল নির্বাচনী ঐক্য করেছিল। গত বৃহস্পতিবার ২৫০ আসনে সমঝোতা ঘোষণা করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৪টি আসন রাখা হয়। তবে নানা অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াত ১৭৯ আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলনের যে ৫টি উন্মুক্ত আসন রাখা হয়েছিল, এর চারটিতে থাকবে জামায়াতের প্রার্থী। ফলে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮৩। ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ৪৪ আসনের সবকটিতে জামায়াত নির্বাচন করলে ২২৭ আসনে দলটির প্রার্থী থাকবেন। তবে কয়েকটি আসন এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি থাকায় শেষ পর্যন্ত জামায়াত ২২০ আসনে নির্বাচন করতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াত ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮ আসন পেয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপির জোট শরিক হয়ে ১৭ আসন পেয়েছিল। এর সাতটি পেয়েছিল রংপুর থেকে। অন্যান্য বিভাগে আসন পেলেও, ৯১ সালে রাজবাড়ী জেলায় একটি আসন ছাড়া কখনও ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে জামায়াত জয়ী হতে পারেনি।

২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে প্রথম দুই পর্বে ৩০ উপজেলায় জয়ী হয়েছিল জামায়াত। যার অধিকাংশ ছিল রংপুর বিভাগের। পরের তিন ধাপে আরও ছয় উপজেলায় জয়ী হয় জামায়াত। তবে, সেবার উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় পর্ব থেকেই কারচুপি-জালিয়াতির খবর আসতে থাকে। পরবর্তী বছরগুলোর নির্বাচনও বিতর্কিত। ফলে বিশ্লেষণের জন্য প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামী আন্দোলনসহ আটদলীয় জোট গঠনের সময় জামায়াত জানিয়ে দিয়েছিল, রংপুর বিভাগে আসন ছাড়বে না। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের গড়া এনসিপি জোটে আসার পর জামায়াত এ নীতিতে পরিবর্তন আনে। ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিকে সাতটি আসন ছেড়েছিল। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার পর জামায়াত একাই ২৯ আসনে নির্বাচন করবে।

এনসিপিকে পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, কুড়িগ্রাম-২ এবং রংপুর-৪ আসন ছেড়েছে জামায়াত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বাকি আট শরিক দলকে রংপুর বিভাগে একটিও আসন ছাড়েনি জামায়াত।

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে নাটোর-৩ এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসন এনসিপিকে ছেড়েছে জামায়াত। ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়েছিল একটি। দলটি জোট ছাড়ার পর এই আসনেও জামায়াত নির্বাচন করবে। বাংলাদেশ খেলাফতকে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন ছেড়ে জামায়াত। এ হিসাবে রাজশাহীতে ৩৬ আসনে নির্বাচন করবে জামায়াত।

খুলনায় বিভাগে ইসলামী আন্দোলনকে চারটি আসন ছেড়েছিল জামায়াত। চরমোনাই পীরের দলের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিল খুলনা-৩। চুয়াডাঙ্গা-১ আসন বণ্টন বাকি রয়েছে। এ আসনটি এনসিপি চাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করার পর খুলনা বিভাগের ৩৫টি আসনেই জামায়াতের নির্বাচন করা প্রায় নিশ্চিত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০টি আসনের সবগুলোতেই লড়বে জামায়াত। বৃহত্তর নোয়াখালীর ১৪ আসনের অর্ধেকে এবং বৃহত্তর কুমিল্লার ২২ আসনের ১৩টিতে নির্বাচন করবেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন জোট ত্যাগ করায় এসব এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী আরও বৃদ্ধি পাবে।

ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯৪ আসনের ৪২টি নিজের ভাগে রেখেছিল জামায়াত। ৫২টি আসন শরিকদের ছেড়েছিল। এনসিপিকে দেওয়া আসনের মধ্যে ১২টি এ দুই বিভাগের। বাংলাদেশ খেলাফতকে জামায়াত যে ২০টি আসন ছাড়তে যাচ্ছে, সেগুলোর ১১টি ঢাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের। খেলাফত মজলিসকে একটি এবং এলডিপিকে দুটি আসন ছাড়া হয়েছে এ দুই বিভাগে।

ইসলামী আন্দোলনকে ঢাকা ও ময়মনসিংহে ১৯টি আসন ছেড়েছিল জামায়াত। দলটি জোট ছাড়ায় এগুলোর কয়েকটি শরিকরা পেতে পারে। বাকিগুলোতে জামায়াত এখন নির্বাচন করতে পারে।

বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে ছয়টি জামায়াত নির্বাচন করতে চেয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনকে ১১টি আসন ছেড়েছিল। এনসিপি, এবি এবং দুই খেলাফতকে এই বিভাগে একটি আসন ছেড়েছিল। ইসলামী আন্দোলন চলে যাওয়ায় আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সিলেটের ১৯ আসনের ১০টি জামায়াত রেখে বাকিগুলো ইসলামী আন্দোলন এবং দুই খেলাফতকে ছাড়ে।

সামনের দিনগুলোতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের ছেড়ে দেওয়া ৪৭টি আসনের মধ্যে কয়টি আসনে ছাড় দেয় সেটাই দেখার।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular