পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মামলা করেছিলেন নিখিল কর্মকার নামের এক ব্যক্তি। এখন তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। যে কারণে এক মাস ধরে বাড়িছাড়া পরিবারটি। গতকাল রোববার সকালে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান নিখিল। তিনি ডাকাতিতে জড়িত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
গত ২২ আগস্ট নিখিল কর্মকারের আমিরাবাদ গ্রামের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাতরা। তারা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে নিখিলে স্ত্রী ও দশম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ের হাত-পা ও মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। পরে ২৫ ভরি স্বর্ণলংকার ও নগদ টাকা লুটে নেয় তারা। ডাকাতিতে জড়িত হিসেবে তারা একই এলাকার বাসিন্দা দুর্জয় হাওলাদারকে শনাক্ত করতে পারেন। সেদিনই নিখিল কর্মকার বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় দুর্জয়সহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয়-সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিখিলের স্ত্রী শীলা রানী বলেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান (ফজলুল হক) ভেন্ডার ও তাঁর সহযোগীরা ডাকাতির মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়িত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে ভয়ে এক মাস ধরে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাঁর মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি ফজলুর রহমানকেও ডাকাতির মামলায় আসামি করতে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফজলু ভেন্ডারের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে রায়হান, দুর্জয় হাওলাদারসহ একদল সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেন শীলা। তাঁর ভাষ্য, সেদিন তারা বাড়ির ফটক-দেয়াল ভাঙচুর করে। তারা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। জমি দখলের জন্যই তারা একের পর এক হামলা ও ডাকাতি করছে।
বিএনপি নেতা মো. ফজলুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, শীলা রানীর সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে তাঁর বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে জেলা জজ আদালতে মামলা চলছে। ২০২২ সালে তিনি ওই জমি কেনার চুক্তিতে বায়না করেন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে একটি পাওয়ার দলিল করেন শীলা রানী। হামলা-মারধর, ডাকাতির ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো বলেও তিনি দাবি করেন।



