ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডডায়াবেটিস রোগীদের বিষণ্নতা কমাতে কার্যকর থেরাপি

ডায়াবেটিস রোগীদের বিষণ্নতা কমাতে কার্যকর থেরাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা কমানোর পাশাপাশি রোগ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বিহেভিয়ারাল অ্যাক্টিভেশন থেরাপি।

বাংলাদেশে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষণা ‘ডায়াডেম’ এর ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ থেরাপি গ্রহণের ছয় ও ১২ মাস পরও অংশগ্রহণকারীদের বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তার উপসর্গ কমার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সেন্টার ফর হেলথ রিসার্চ এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘ট্যাকলিং ডিপ্রেশন ইন ডায়াবেটিস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ বিষয়ক এক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের জনস্বাস্থ্য ও মনোরোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. নাজমা সিদ্দিকী।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে বিহেভিয়ারাল অ্যাক্টিভেশন থেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ছয়টি সেশনের এ চিকিৎসাপদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের আচরণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বিষণ্নতা মোকাবিলায় সহায়তা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিষণ্নতাকে এখনো যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না অথচ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কয়েক দশকের গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য অনেক শারীরিক রোগের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিষণ্নতার উপস্থিতি বেশি। বিষণ্নতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে আরও জটিল করে তোলে।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সচেতনতা ও শিক্ষামূলক যে মডেল তৈরি হয়েছে, তা অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। গবেষণাটির কস্ট-বেনিফিট ও কস্ট-ইফেক্টিভ অ্যানালাইসিস তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে রোগীরা ডায়াবেটিস বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণে আরও উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে এ চিকিৎসাপদ্ধতি বাস্তবায়ন সহজ হবে।

গবেষণাসংশ্লিষ্টরা জানান, বিহেভিয়ারাল অ্যাক্টিভেশন থেরাপি প্রতি সাত দিন পরপর মোট ছয়টি সেশনে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত নার্স, পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যশিক্ষাকর্মীরাও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা নিয়ে এ থেরাপি দিতে পারেন। পশ্চিমা বিশ্বে বিষণ্নতা মোকাবিলায় পরিচিত এ পদ্ধতি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিজিজ কন্ট্রোল) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মহসীন।

/মাহমুদ/

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular