ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাঅস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বপ্ন এখন বাস্তবতার খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের চাপে রেখেছে লাল-সবুজের দল। তবে ম্যাচ এখনো শেষ হয়নি; ক্যামেরন গ্রিনের প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া লিড নেওয়ায় শেষ দিনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং আবারও চাপে পড়লেও ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু শতরান ম্যাচের সমীকরণ কিছুটা বদলে দিয়েছে।

মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয়

চতুর্থ দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ছিল ১৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে, বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রান পিছিয়ে। দিনের শুরুতেই বাংলাদেশি বোলাররা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজ অস্ট্রেলিয়ার মিডল ও লোয়ার অর্ডারে একের পর এক আঘাত হানেন।

অ্যালেক্স ক্যারি ৩০ রান করে মিরাজের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মাত্র ৫ রানে বোল্ড হন বেউ ওয়েবস্টার। প্যাট কামিন্সও মিরাজের শিকার হন ৮ রানে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার দ্রুত চাপে পড়ে যায়। চতুর্থ দিনের এক পর্যায়ে মিরাজের শিকার দাঁড়ায় চার উইকেটে।

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে মিচেল স্টার্কের উইকেটে। গ্রিনের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও স্টার্ককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

গ্রিনের শতরানে বদলে গেল সমীকরণ

বাংলাদেশ যখন দ্রুত অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে সহজ লক্ষ্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তখন এক প্রান্ত আগলে রাখেন ক্যামেরন গ্রিন। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্যারিয়ারে ঘরের মাঠে প্রথম শতরান তুলে নেন। ১৯২ বলে শতরান পূর্ণ করেন গ্রিন।

চতুর্থ দিনের শেষ দিকের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ২৭৪ রান করেছে এবং বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪২৬ রানের তুলনায় ৪৬ রানে এগিয়ে রয়েছে। গ্রিন ১০২ রানে অপরাজিত এবং নাথান লায়ন ৮ রানে ক্রিজে ছিলেন।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের সামনে এখনো জয়ের সুযোগ যথেষ্ট উজ্জ্বল। অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে অপেক্ষাকৃত ছোট লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাস গড়তে পারে সফরকারীরা। তবে গ্রিনের উপস্থিতি এবং অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেট জুটির প্রতিরোধ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম ইনিংসেই তৈরি হয়েছিল ভিত্তি

এই টেস্টে বাংলাদেশের দাপট শুরু হয় প্রথম দিন থেকেই। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ে। তানজিদ হাসান ১০১ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন তিনি।

তানজিদের সঙ্গে মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর অবদানে বাংলাদেশের স্কোর পৌঁছে যায় ৪২৬ রানে। এর ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।

ইতিহাসের হাতছানি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় অর্জন হতে পারে। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার তাদের মাটিতে জয়ের সুযোগ এসেছে। ডারউইন টেস্টটি দুই দলের ২০২৬ সালের দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচ এবং ১৮ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট সফরের অংশ।

তবে ক্রিকেটে শেষ বল পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। গ্রিনের শতরান অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছে, আর বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ দ্রুত শেষ দুই উইকেট তুলে নেওয়া। এরপর ব্যাটারদের শান্ত মাথায় লক্ষ্য পার করতে পারলেই লেখা হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।

ডারউইনের চতুর্থ দিনের লড়াই তাই শুধু একটি টেস্টের ফলের অপেক্ষা নয়—এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ ঘোচানোর সম্ভাবনাও। ইতিহাস এখন হাতছানি দিচ্ছে; শেষ হাসি কার, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular