ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে, তদন্তে নতুন তথ্য

ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে, তদন্তে নতুন তথ্য

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে দুটি পৃথক মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রামে আনা হলে আদালত জামাল হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি সীমান্ত পার হতে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এজন্য প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় রুপি দেওয়ারও চুক্তি হয়েছিল। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপন করতে গোঁফ কামিয়ে ফেলেন, ভুয়া নাম ব্যবহার করেন এবং একটি এসইউভিতে করে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের পলাতক গ্যাংস্টার বড় সাজ্জাদের অপরাধী চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, চট্টগ্রামে সংঘটিত একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বাকালিয়া জোড়া হত্যা এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গ্যাংস্টার ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ডসহ অন্তত সাতটি ফৌজদারি মামলায় ডেভিড ইমন অভিযুক্ত। এছাড়া তার কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বাকালিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রধারী হামলাকারী এবং মোটরসাইকেল ভাড়ার ব্যবস্থাও তিনিই করেছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ জানান, রিমান্ড চলাকালে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অপরাধী নেটওয়ার্ক, সহযোগীদের পরিচয়, অস্ত্রের উৎস এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার পেছনে কারা সহায়তা করেছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর কোতোয়ালি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অন্যান্য ইউনিটের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দিন নজরদারির পর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।-

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে চট্টগ্রামভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্র সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপথে পলায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular