ঢাকা  বুধবার, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রথম নারী শিক্ষার্থী য়াপাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রথম নারী শিক্ষার্থী য়াপাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো তরুণী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন য়াপাও ম্রো।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম একটি গ্রাম নিশিপাড়া। এটি রুমা উপজেলার ৩ নম্বর রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের অন্তর্গত।

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম চারদিকে পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা। এখানকার মানুষের প্রতিদিন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সুপেয় পানি বা হাসপাতাল—কিছুই সহজলভ্য নয়। তবে এই অভাবের মধ্যেও তাদের জীবনের অবলম্বন প্রকৃতিই।

প্রকৃতির এ রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে বেড়ে উঠা য়াপাও ম্রোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শুধুমাত্র তার একার সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো ম্রো জাতিগোষ্ঠির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

এ ঘটনা ম্রোদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও সম্মানের। অবশ্য এই কৃতিত্ব অর্জনে অদম্য এই তরুণীকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

বান্দরবানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যায় ম্রোদের অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু পাহাড়ের অন্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় তারা অনগ্রসর। জুমচাষনির্ভর এই নৃগোষ্ঠীর বেশির ভাগই লিখতে-পড়তে পারে না।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের নিশিপাড়া কঠিন বাস্তবতায় ঘেরা। পাহাড়ি এই গ্রামে আজও বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, হাসপাতাল কিংবা স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা নেই। জুমচাষ নির্ভর জীবিকা এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা ম্রো জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই এখনও লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

ম্রো ভাষার গবেষক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, এতদিন ম্রো সমাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কোনো তরুণীর উদাহরণ ছিল না। য়াপাও সেই অচলায়তন ভেঙেছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির আত্মবিশ্বাস জাগানোর ঘটনা।

চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় য়াপাওয়ের বাবা পারাও ম্রো একজন দরিদ্র জুমচাষি। নিজের জীবনে শিক্ষা না পেলেও সন্তানদের জন্য আলোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কষ্টের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বারবার মেয়েকে বলতেন, ‘আমরা তো চোখ থাকতে অন্ধ ছিলাম, তুই আমাদের আলো হবি।’

দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা, কষ্ট ও সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তাঁর এই অর্জন পাহাড়ের প্রতিটি ম্রো কিশোরীর জন্য হবে নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular