ঢাকা  বুধবার, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশঢাকাভেরিফিকেশন ফি বিতর্কে ঢাবির ব্যাখ্যা ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ

ভেরিফিকেশন ফি বিতর্কে ঢাবির ব্যাখ্যা ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন একজন শিক্ষার্থীর সনদপত্র যাচাইয়ের ফি প্রদান সংক্রান্ত একটি সংবাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিনিয়া তাসনিমের অভিযোগ, তাঁর বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে ঢাবির ‘সনদ যাচাই ফি’।

তিনি দাবি করেন, একাডেমিক কোনো ঘাটতি না থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা, নথিপত্র তুলতে দেরি ও হঠাৎ ফি চাওয়ায় তার স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু এই জটিলতায় সুযোগ হারিয়েছেন। তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিকমাধ্যমে তোলপাড় উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সমালোচনাও হচ্ছে।

ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, এ নিয়ে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ প্রচারণা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান- ‘প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ ডলার ফি প্রদানের বিধান রয়েছে। এই ফি কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান করে না। এটি প্রদান করে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান।
ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে সনদপত্র যাচাই করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সনদপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট ইমেইলের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়।
ফেসবুকে আলোচিত শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠান ‘UHR’ গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেইল পাঠায়। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ‘UHR’ এ বাবদ নির্ধারিত ফি প্রদান করেনি। উল্লেখ্য, কোন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ফি প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে সোনালী ব্যাংক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় এই ফি জমা দেন। পরবর্তীতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কোন পক্ষের কাছ থেকে ফি না পাওয়ায় ফিরতি ইমেইলে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সনদ যাচাইয়ের ফি চাওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতর কোন সময়ক্ষেপণ বা দায়িত্ব অবহেলা করেনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন জানিয়েছেন, ফি আদায় নিয়ম অনুযায়ী হওয়ায় প্রশাসন অন্যায় করেনি।

সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বলেছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ঢাবির সঙ্গে নয়, বরং WES, AMS ইত্যাদি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সনদ যাচাই করে। ঢাবি সিন্ডিকেটের ২০১৫ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ৫০ ডলার ফি নির্ধারিত আছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থী নিজেই পরিশোধ করে।

উল্লেখ্য, তবে ঢাবি জানিয়েছে, জিনিয়া তাসনিম নির্ধারিত ফি না দেওয়ায় ৪ মার্চ যাচাই আটকালো।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, যাচাই প্রক্রিয়াটি নিয়মমাফিক সম্পন্ন হয়েছে, কোনো গাফিলতি হয়নি। এদিকে, ঢাবি আরও জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular