নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা: কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার সভাকক্ষে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের আলোকে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জানাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা প্রশাসকদের নিয়মিতভাবে সব উপজেলা পরিদর্শনের পরামর্শও দেন মীর শাহে আলম। কুড়িগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদেরও সমন্বয় সভায় সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। মাদকবিরোধী এসব কার্যক্রমে মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
জুয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায় মামলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি গুজব ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নদীভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খাল খনন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সার সরবরাহের বিষয়ে সভায় বলা হয়, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে কৃষকেরা ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী শূন্য পদে দ্রুত ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান করা সম্ভব হবে। তৃণমূলের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনসেবার বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন।
জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং রংপুর বিভাগের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




