অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অংক আবারও বড় আকারে লাফিয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
এর আগে গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও, পরবর্তী জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এসে তা পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী রূপ নিয়েছে। আগের খেলাপি ঋণের সঙ্গে নতুন করে সুদ যুক্ত হওয়া এবং যথাযথভাবে ঋণ আদায় না হওয়ার ফলে খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ও হার দুটোই বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা, যা গত ডিসেম্বর প্রান্তিকের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বর্তমানে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশই খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ। তবে আশার কথা হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে।




