ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকতিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, নেপালেও কম্পন

তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, নেপালেও কম্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কম্পন নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এর মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুই অঞ্চলের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪৫।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে নিখোঁজদের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শত শত কর্মীও রয়েছেন। এরই মধ্যে দুর্গম এলাকায় টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালি ও একজন চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে। তবে হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও হ্রদ থেকে হঠাৎ পানি নেমে আসা, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বন্যা, হিমবাহ ও পাহাড়ধসের পাশাপাশি একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি ও মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular