নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি—(সাবেক দরিরামপুর হাইস্কুল)—ঘিরে শতবর্ষ উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য ও বিস্তৃত উদযাপন কমিটি।
গত ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার কমিটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করে। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উপরিচালক ও সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাহবুবুল হককে এবং বিশিষ্ট ক্রিড়াবিদ ও সংগঠক মোঃ মশিউর রহমান দীপককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
উদযাপনকে সফল, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিভিন্ন প্রজন্ম ও পেশার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কমিটিতে।
নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়
শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ে আহ্বায়ক প্যানেলে রয়েছেন নজরুল ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ বজলুল করিম শাহীন, জি. এম. নূরুল করিম স্বপন, মোঃ এনামুল হক, মোঃ শাজাহান তরফদার, মোঃ বেলাল উদ্দিন, এ.বি.এম. মাহাবুব মোর্শেদ স্বজল, মোঃ গোলাম কিবরিয়া, মোঃ মুঞ্জুরুল হক, মোঃ শফিউল আযম বিপু, মোঃ আব্দুল মতিন, মোঃ আনিছুজ্জামান, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ পিনাকী, মোঃ মাহমুদুল করিম সেলিম, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিহাব, মোঃ ইমরুল কায়েস, মোঃ আবু ফয়সাল খান, মোঃ জহিরুল হক লিটন, মোঃ গোলাম সারোয়ার লিটন, মোঃ তোফায়েল আহমেদ তুহিন, মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মোঃ শরীফুজ্জামান সিজার, মোঃ আতাউর রহমান সোহেল খান, মোঃ মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, মোঃ মনিরুজ্জামান খোকন, ডা. মনোয়ার সাদাত, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ মিনহাজ, মোঃ দেলোয়ার হোসেন স্বপন ও মোঃ জামাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা।
কমিটিতে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের কর্মোদ্দীপনার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ফলে শতবর্ষ উদযাপনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের বৃহৎ মিলনমেলা এবং প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ
ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির রয়েছে অনন্য ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, দরিরামপুর হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৩ সালে। পরবর্তীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে নজরুল একাডেমি করা হয় এবং ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়।
কিশোর বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম ত্রিশালে অবস্থানকালে এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ১৯১৪ সালে তাঁকে দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়। বিদ্যালয়টির সঙ্গে যুক্ত নজরুলের স্মৃতি আজও ত্রিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কবির স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। ত্রিশালে নজরুলের বাল্যজীবনের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। এ কারণে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি নজরুলের শৈশব, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতার স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যস্থল।
শতবর্ষ উদযাপনে বৃহৎ সদস্য তালিকা
উদযাপন কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গুণীজন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও তরুণ প্রজন্মকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ আব্দুর রউফ, ডা. গোলাম মোস্তফা, মোঃ আব্দুস সালাম, মোঃ আব্দুর রশীদ, মোঃ শরিফুজ্জামান মৃদুল, মোঃ মজিবুর রহমান, এ.এইচ.এম. মোতাজিদ বিল্লাহ বাদশাহ, মোঃ শাহ্ আহমদ খবির, মোঃ আবু তাহের মুন্সী, মোঃ আজহারুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ ঢালী, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আমিনুল হক মন্ডল, ডা. আঃ ছালাম, এ.বি. সিদ্দিক শাজাহান, মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার, মোঃ মতিউর রহমান চানু, মোঃ শাহজাহান কবির আকন্দ, এ.কে.এম. কামরুল হাসান, শামীম আজাদ আনোয়ার, মোঃ রেজাউল করিম ফারুক, মোঃ ইবনে খালেদ, শ্রী অবিনাশ চন্দ্র দাম, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ হারুন-অর-রশীদ, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ শহীদুল্লাহ শহীদ, মোঃ আব্দুল্লাহ-আল মামুন, মোঃ নজরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান হেনরী, মোঃ রাশিদুল হাসান বিপ্লব, মোঃ মশিউর রহমান শরীফ, মোঃ শামীম মাহমুদুল করিম, মোঃ তারিকুল ইসলাম তারেক, মোঃ হাসান শহীদ সোহেল, এস.এম. ইকবাল হোসেন, মোঃ ফখরুল করিম শামীম, মোঃ হুমায়ুন কবীর আকন্দ, মোঃ নাঈমুল হক খান, মোঃ আমিনুল ইসলাম খোকন, মোঃ আবু রায়হান, মোঃ জাহিদুল কবীর রিটন, মোঃ মাহাবুবুল কাউসার, মোঃ শহীদুল ইসলাম শাহীন, মোঃ এমদাদুল হক বাদল, শ্রী সুদেব সাহা, মোঃ শফিকুল ইসলাম, এ.কে.এম. আনিছুর রহমান, মোঃ ওয়াহিদুল আলম শহীদ, মোঃ জসীম উদ্দীন আদিল, মোঃ আশরাফুল ইসলাম, মোঃ মতিউর রহমান সেলিম, মোঃ হারুন গজ্জালী, মোঃ জুয়েল মোর্শেদ, মোঃ রাশেদুজ্জামান রানা, মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ সেলিম মিয়া, মোঃ ফারুক হোসেন আকন্দ, মোঃ আব্দুর রহিম নিক্সন, মোঃ মাসুদুল হক মাসুদ, মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, আশিকুর রহমান, মোঃ দিলজিৎ হাসনাইন বিরাজ, মোঃ জাহিদুল আলম নাছিম, মোঃ আমিনুল হক মিন্টু, মোঃ মাহমুদুল হাসান সোহাগ, মোঃ রুবেল পারভেজ, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ, মোঃ মুঞ্জুরুল হক শাকিল, মোঃ গোলাম মোর্তজা সুমন, মোঃ মনির হোসেন কাঞ্চন, নুরুদ্দিন মোঃ হুমায়ুন, মোঃ মনিরুল হাসান মামুন, মোঃ মোশারফ হোসেন তরফদার, মোঃ আব্দুল বাতেন ডালি, মোঃ নাঈম মৃধা, মোঃ মোতাহার হোসেন মামুন, মোঃ হুমায়ুন কবীর সুমন, মোঃ আব্দুল বাছেদ ফারুক, দিদারুল হাসান সুমন, এ.এস.এম. সাজেদুর রহমান, রেজাউল করিম, মোঃ আশরাফুল আরেফিন জনি, আবু ছালেম, হারাধন সাহা, মোঃ আনিছুর রহমান, শরিফ নাফে আস সাবের, হোসায়িন মোঃ আবু জাফর মইনুদ্দিন সাঈদ, শাহারিয়ার হোসেন সোহেল, ছাব্বির আহম্মেদ রনি, ফজলে রাব্বি শাকিল, শাহ্ মোঃ মাহবুব হাসান, মোঃ আবু সাঈদ, মোঃ জামিনুল হাসান হিমেল, এনায়েত কবির আরিফ, মোঃ ফাখরুল ইসলাম, নাজিউর রহমান তুহিন, মোঃ তাইজুল ইসলাম বাপ্পী, মোঃ মুছাদ্দেক হাসান নয়ন, মেহেদী হাসান সুমন, ছামিউল হাসান লাভিং, মাহবুবুর রহমান, মোঃ ছাব্বির হোসেন, মোঃ সুফল আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন রাজু, মোস্তাফিজ আল শাওন, আসাদুজ্জামান রিফাত, আবু বক্কর সিদ্দিক, ওমর ফারুখ জনি, ফারুখ আহম্মেদ রিয়েল, মোঃ সাদিকুল ইসলাম, মোঃ আবু জায়েদ রিজন, মোঃ স্বজল আহম্মেদ, ডা. মেহেদী হাসান, নয়ন হাসান, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, মোঃ আলামিন, মোঃ রুমন মিয়া, জাহিদ হাসান, ফয়সাল আহম্মেদ, মোঃ ছাব্বির হোসেন সাকিব, শাকিল আহম্মেদ, মারুফ হোসেন, রবিউল কামাল, মোঃ ইমন খান, মোঃ মোবারক হোসেন ফরহাদ, মোঃ ফাহিম ফয়সাল, মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান আকন্দ (পিয়াল), মোহাম্মদ উল্লাহ্ তুষার, মুনতাসির মারুফ আসিফ, রিয়াজ ইসলাম, নাফিজ আল নিশাত, নাঈম, জাফর আহম্মেদ, রিয়াজুল কবীর সোহান, মাহির ফয়সাল সাজিদ, সামিউল ইসলাম সোয়াদ, আরিফ মাহমুদ সাজ্জাদ, আন্তর হাসান আফ্রিদি, মোক্তাদির হাসান সিফাত, মুনতাসির মাহমুদ আনিক, রোকনুজ্জামান তাজ, তাসিনুল ইসলাম তান্নু, শান্ত সরকার, মোঃ ফাহাদ হাসান, মোঃ কামরান ফারহান রাফি, আহানাফ অর্ণব, মোঃ জাহিদুজ্জামান এ্যামিলি, হৃদয় আহম্মেদ, মোঃ শুভন আহম্মেদ, মোঃ আলিমুল আবির, মোঃ দিহান খান ও মোঃ ইরাম আহম্মেদ।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রত্যাশা
নবগঠিত কমিটির সদস্যদের প্রত্যাশা, শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, নজরুল-স্মৃতি, পুরোনো স্থাপনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগেরও সুযোগ তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা ও স্মৃতিকেন্দ্রের সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাসসের এক প্রতিবেদনে স্মৃতিকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে শতবর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি নজরুলের স্মৃতিবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ, গবেষণা, আর্কাইভ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
ত্রিশালের মানুষের প্রত্যাশা, বর্ণাঢ্য এই আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন ঘটাবে। একই সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শৈশবস্মৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এই বিদ্যাপীঠের ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।




