ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকথাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষের কারণ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষের কারণ

নিউজ ডেস্ক : দুই দেশের ৮১৭ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত ফ্রেঞ্চ ঔপনিবেশিকদের ১৯০৭ সালের মানচিত্রের ভিত্তিতেই নির্ধারিত।

সম্প্রতি, মে ২০২৫ সালে চ্যাং বক বা এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় বন্দুকের লড়াইয়ে এক কম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হন। এরপর দুই দেশ একে অপরকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে—সীমান্ত বন্ধ থেকে শুরু করে কৃষির পণ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত।

জুলাইয়ের শুরুতে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে থাইল্যান্ডের সেনারা আহত হন। ২৪ জুলাই সংঘর্ষে বন্দুক, আর্টিলারি, রকেট এবং ফাইটার জেট (F‑16 বিমান) পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। এতে অন্তত ৯–১২ জন থাই নাগরিক নিহত ও আহত হন, সরকারি নির্দেশে সীমান্তে বিমান হামলাও হয়।

থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা- প্রধানমন্ত্রী পাটোংটার্ন চিনাওয়াত্রা (শিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রতিনিধি) কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান সেনকে “চাচা” বলে উল্লেখসহ আরো বক্তব্য ফেলায় তিনি স্থগিত হন। এই কূটনৈতিক ফাঁদ ও অভ্যন্তরীন চাপ তার সরকারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

কম্বোডিয়ায় জাতীয়তাবাদ হান সেন এখনও প্রায় অচল অবস্থায় ক্ষমতায় আছেন এবং তার ছেলে হান মানেট এখন প্রধানমন্ত্রী। সীমান্ত সংঘর্ষ কম্বোডিয়ার ভেতরের চাপে ব্যবহৃত হচ্ছে জাতীয়তাবাদ উস্কে দিতে—তার শাসনমূলক ভঙ্গি অধিক দৃঢ় করে তুলছে।

কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে ম্যাটার পুনরায় তোলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু থাইল্যান্ড আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) অনুমতি দেয়নি। এছাড়া সীমান্তে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার ডাক দিয়েছে মালয়েশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষের মূল কারণ—ঔপনিবেশিক যুগের আলোচ্য মানচিত্র, মাঝেমধ্যে জাতীয়তাবাদ- উত্তেজনামূলক ঘটনা এবং রাজনৈতিক প্রয়োজনে এসবকে অস্ত্রবিরোধী উদ্যোগে পরিণত করার একটি মিশ্রণ।-

বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক সংকট, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রত্যাহার একসাথে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিকভাবে শান্তির আহ্বান জানানো হলেও, দুই দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনী নিজ স্বার্থে সংঘর্ষের ক্ষেত্র দেখে নিচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular