নিউজ ডেস্ক : দুই দশকের বেশি সময়েও ঠিকমতো থিতু হতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বাধীন সংস্থার সাত কমিশনারের মধ্যে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছে মাত্র তিনটি। বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুদককে সফল করতে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে স্বাধীন কমিশন হিসেবে যাত্রা শুরু দুদকের। তবে দুই দশক পেরিয়েও যেন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পূর্ণতা পায়নি রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। সাতটি কমিশনের মধ্যে চারটিরই বিদায় ঘটেছে মেয়াদ শেষের আগে।
সবশেষ গত ৩ মার্চ আগাম আভাস ছাড়াই পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার। বিদায়ী চেয়ারম্যানের দাবি, নতুন সরকারের কাজের পথ সুগম করতেই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো।
তবে এই পদত্যাগকে নিছক স্বেচ্ছায় বা ব্যক্তিগত মানতে নারাজ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলছে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে কমিশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন দেশের পুরনো রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পদত্যাগ হতাশাজনক। এভাবে পদত্যাগের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। পদত্যাগ করা চেয়ারম্যানের সক্রিয়তা দেখেছি। তার কিছু সাফল্যও দেখেছি। কিন্তু তার নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত কাজ করতে না দেয়ার কারণে তিনি কতটুকু সাফল্য বা ব্যর্থ হলেন, সেটা যথাযথভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মোমেন কমিশনের ১৫ মাসের মেয়াদে দুদকে জমা পড়েছিল অন্তত ১৫ হাজার অভিযোগ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও আমলা মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার ভিআইপি জড়িয়েছিলেন সংস্থাটির জালে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রভাবমুক্ত কাজের পরিবেশের তাগিদ সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলামের।
তিনি বলেন, স্বাধীনচেতা যোগ্য মানুষ, যারা দুর্নীতির বিষয়গুলো বুঝেন, তাদের এসব জায়গায় আসা উচিত। কিন্তু এলেই হবে না, সরকারকে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অভিভাবকশূন্য দুদকে দ্রুত যোগ্য কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান বিশ্লেষকদের।




