নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন, নদীবেষ্টিত ও দীর্ঘদিন অবহেলিত জনপদ রাঙ্গাবালীকে একটি আধুনিক ‘মডেল উপজেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এবং সবুজ ছায়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাজী আল মামুন সরদার। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও এই জনপদের মানুষ এখনো অনেক আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিজ জন্মভূমির এই স্থবিরতা কাটাতে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হাজী আল মামুন সরদার বলেন, কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যই নয়, জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, রাঙ্গাবালীর মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি জানান, রাঙ্গাবালীর প্রধান সমস্যা হলো দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা। এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে এখানকার মানুষকে বড় বড় নদী পাড়ি দিতে হয়, যা দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে কষ্টকর। এই ভোগান্তি নিরসনে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আল মামুন বলেন, “রাঙ্গাবালীর মানুষ ও মাটির সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। আমি দেখেছি এখানকার মানুষ পাকা রাস্তা, পুল ও ব্রিজের অভাবে কতটা কষ্ট পায়। সুযোগ পেলে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আমি এই যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এই জনপদ এখন উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে রাঙ্গাবালীকে আধুনিক শহরের সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেও তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে অবদান রাখতে চান।
এদিকে হাজী আল মামুন সরদারের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাঙ্গাবালীর সচেতন মহল। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলিত এই জনপদকে এগিয়ে নিতে আল মামুনের মতো দূরদর্শী ও কর্মঠ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং নদী পারাপারে আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে তারা মনে করেন।
ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝেও নিজ শেকড়কে ভুলে যাননি এই উদ্যোক্তা। তিনি বিশ্বাস করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে রাঙ্গাবালী আর পিছিয়ে থাকবে না। আল মামুন বলেন, “আমি চাই রাঙ্গাবালীর প্রতিটি মানুষ যেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আমি আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এই জনপদকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”
উপকূলের দুর্গম এই জনপদকে ঘিরে হাজী আল মামুন সরদারের এমন স্বপ্ন ও পরিকল্পনা স্থানীয় মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।




