নিউজ ডেস্ক: সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কুষ্টিয়া, সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ফলে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোয় না। এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যা ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসব মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করা হয়।
সংগঠনটি জানায়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। পূজার আগে ও পরে এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৭ সাল থেকে দুর্গাপূজার অষ্টমী, নবমী ও দশমী তিন দিন সরকারি ছুটি করা, প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপন, পূজার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালীন পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন। এছাড়া দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠনের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট ও হিন্দু ছাত্র মহাজোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



