ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশদৃষ্টিশক্তি হারিয়েও এসএসসিতে পাশ করে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় নান্দাইলের রুবিনা

দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও এসএসসিতে পাশ করে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় নান্দাইলের রুবিনা

  • চোখের আলো নেই, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডান হাত ও বাম পা। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহের কাছে হার মেনেছে সব প্রতিবন্ধকতা। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে কিশোরী রুবিনা।
    রুবিনা আক্তার ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশল্লী ইউনিয়নের ধরগাঁও গ্রামের দিনমজুর রুবেল মিয়ার মেয়ে। তার এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
    ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুবিনা সহপাঠীদের সঙ্গে ইজিবাইকে করে স্থানীয় মুশল্লী বালিকা বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে একটি দ্রুতগতির বাস ইজিবাইকটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। গুরুতর আহত রুবিনাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
    দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর দিনমজুর বাবা রুবেল মিয়া সহায়-সম্বল বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন। এতে প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারায় রুবিনা। একই দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ও বাম পায়েও গুরুতর আঘাত লাগে। প্রায় এক বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরে সে।
    দৃষ্টিশক্তি হারালেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন হারায়নি রুবিনা। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু মেয়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানেন পরিবারের লোকজন। তাকে আবারও বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন বাবা মা।
    এরপর সহপাঠীদের পাশে বসে শ্রেণিকক্ষের পাঠ শুনে শুনেই পড়াশোনা চালিয়ে যায় রুবিনা। বিগত এসএসসি পরীক্ষার সময় তার পাশে দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী বসত। রুবিনা মুখে উত্তর বলে দিত, আর শ্রুতলেখক হিসেবে ওই শিক্ষার্থী খাতায় উত্তর লিখে দিত।
    প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও থেমে থাকেনি রুবিনা। দ্বিতীয়বার নতুন উদ্যমে শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে ৩.০৬ জিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হয় সে।
    সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে আমি আমার মা-বাবা, সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার মনে একটাই চিন্তা—আমি কি আরও পড়তে পারব? আমার দিনমজুর বাবার পক্ষে কি আমার পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব? আমার খুব ইচ্ছে পড়াশোনা শেষ করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। রুবিনার স্বপ্নপূরণের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা অর্থনৈতিক সংকট। দিনমজুর বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা কঠিন। তাই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবারের লোকজন।
    রুবিনার স্বপ্ন—পড়াশোনা শেষ করে একদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন শুধু একটু আর্থিক সহায়তা ও সমাজের মানুষের মানবিক সহায়তা । অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া চোখের আলো হয়তো আর ফিরবে না, কিন্তু সহযোগিতা পেলে তার স্বপ্নের আলো ঠিকই জ্বলে উঠতে পারে।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular