ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিবন্ধ কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে রোড শো

বন্ধ কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে রোড শো

নিউজ ডেস্ক : দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের শিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী খাতে গতি ফেরাতে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০০ বিলিয়ন টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। ওই প্যাকেজের বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বন্ধ ও বিপর্যস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে, যাতে উৎপাদন, রপ্তানি ও শ্রমবাজারে স্বস্তি ফেরে।

রোড শো-তে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত উদ্যোক্তা ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ছিল দেশের বড় কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ, আর বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল জাপানের একাধিক করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের শিল্পখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, অবকাঠামো সুবিধা এবং পুনরুজ্জীবনের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্ধ ও লোকসানি কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগ এলে কেবল উৎপাদনই বাড়বে না, নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, হালকা প্রকৌশল, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতে বিদেশি অংশীদারত্ব বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রণোদনা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের এই উদ্যোগ—দুটোই একই লক্ষ্যের অংশ, অর্থাৎ শিল্পে আস্থা ফেরানো।

নীতিনির্ধারকদের মতে, এখন প্রয়োজন প্রতিশ্রুত বিনিয়োগকে বাস্তব রূপ দেওয়া। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দ্রুত অনুমোদন, অবকাঠামো সহায়তা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বন্ধ কারখানা সচল করার এই উদ্যোগ বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারে।-

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাপানের মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular