নিউজ ডেস্ক: দেশের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি বা অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাঁরা মনে করেন, শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিক সংগঠন গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস গণমাধ্যম আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ’ বিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন দেশসেরা ব্যবসায়ী নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন গণমাধ্যম সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
বাংলাদেশ থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, “শ্রম আইন ও শ্রমিক সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া অনুচিত। কয়েক মাস পর নির্বাচিত সরকার এলে, সেই সরকারকেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত।”
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন এই বিষয়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।”
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না এলে আগামী ১০-১৫ বছরেও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় স্থিতি ফিরবে না।”
বিসিএমইএর সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, “সুশাসন ছাড়া কোনো ব্যবসার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখন ক্রেতারা আস্থাহীন হয়ে পড়েছে, তাই নির্বাচনের মাধ্যমেই এই অনিশ্চয়তা কাটানো সম্ভব।”
প্রধান অতিথি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যবসা সহজ করার পরিবেশ ছিল ৯৯ শতাংশ খারাপ, এখন তা উন্নতি পেয়ে ৯৫ শতাংশে নেমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সিঙ্গেল উইন্ডো চালু হওয়ায় প্রশাসনিক ঝামেলা কমেছে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং আকিজ বশির গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “যে দেশে বিমানবন্দর আগুনে পোড়ে, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয়।”
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর যোগ করেন, “ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
দেশের ব্যবসায়ীরা একমত—গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে টেকসই স্থিতি ফিরবে না।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



